Monday, November 2

ইরানে গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ এজেন্ট পেদারানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

মোসাদ এজেন্ট হোসেইন পেদারান – ছবি: এমএনএ, ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, মধ্য ইরানের ইসফাহান প্রদেশে অবস্থিত ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনার তথ্য ইসরায়েল’-এর গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদকে সরবরাহ করার দায়ে হোসেইন পেদারান নামে একজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।

তাকে কবে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বা কখন তার বিচার অনুষ্ঠিত হয়, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত জানায়নি।

বিচার বিভাগের পরিচালিত সংবাদ সংস্থা মিজান জানিয়েছে, পেদারান ইসফাহানের সামরিক স্থাপনা সম্পর্কে স্পর্শকাতর তথ্য সরবরাহ করেছিলেন এবং আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যেই তিনি এসব কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছিলেন।

ইরানের কর্মকর্তারা জানান, প্রযুক্তিগত তদন্ত এবং ডিক্রিপ্ট করা যোগাযোগের মাধ্যমে পাওয়া তথ্য থেকে জানা যায়, পেদারানের দেওয়া কিছু স্থাপনা পরবর্তীতে ১২ দিনের যুদ্ধের সময় হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল।এসব হামলায় সামরিক সদস্য নিহত ও আহত হয়েছে।

তদন্তকারীরা তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে অত্যন্ত গোপনীয় ক্ষেপণাস্ত্র-সংক্রান্ত তথ্য সম্বলিত একটি নোটবুক এবং কয়েকটি এনক্রিপ্টেড স্টোরেজ ডিভাইস উদ্ধার করার কথা জানিয়েছে।

কতৃপক্ষ জানায় পেদারান প্রথমে অর্থের বিনিময়ে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়ে সিআইএ-এর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন। সেখান থেকে কোনো উত্তর না পেয়ে পরে তিনি মোসাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে “বেন” নামে পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি নেদারল্যান্ডসের একটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরের মাধ্যমে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

পেদারান সামরিক স্থাপনা, সেখানে কর্মরত ব্যক্তিদের তথ্য, এমনকি তাদের স্ত্রীদের ফোন নম্বরসহ ব্যক্তিগত তথ্য এবং অন্যান্য অপারেশনাল তথ্য সরবরাহ করেছিলেন। মোসাদ তাকে এমন একটি রিমোট-কন্ট্রোল ডিভাইস দেওয়ার পরিকল্পনাও করেছিল, যার মাধ্যমে সামরিক ঘাঁটিতে ছবি তোলা ও ভিডিও ধারণ করা সম্ভব হতো বলে কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে।

পেদারানের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, তাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণস্থলগুলো।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পেদারান কয়েক দফায় ইউরোতে অর্থ পেয়েছিলেন। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তিনি টেলিগ্রামের মাধ্যমে আবার যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা করলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে, এই মৃত্যুদণ্ড ইরানে চলমান ব্যাপক ধরপাকড় ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বৃহত্তর অভিযানের অংশ। আগস্টে বিচার বিভাগ আরও দুই ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘোষণা দেয়। তাদের বিরুদ্ধে ‘ইসরায়েল’-এর কাছে সংবেদনশীল সামরিক স্থাপনার স্থানাঙ্ক সরবরাহের অভিযোগ আনা হয়েছিল।

ইসফাহান প্রদেশে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনা রয়েছে এবং চলমান সংঘাতে অঞ্চলটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে অন্যতম।

হামিম-২০/ডিএসই-৯