
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধের বিস্তার নিয়ে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, সৌদি আরবকে এই সংঘাতে জড়ানো উচিত নয়।
তুরস্কের টেলিভিশন চ্যানেল এনটিভি-কে ফিদান বলেন, ইরান ও আমেরিকার চলমান সংঘাতের অংশ হিসেবে সৌদি আরবকে অন্তর্ভুক্ত করাকে আমরা মানবো না। সৌদি আরবকে এই সমীকরণের বাইরে রাখা উচিত, কারণ তারা নিজেরাও এতে জড়াতে চায় না।
ইরান-সমর্থিত হুথিরা লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রান্তে বাব আল-মানদাব প্রণালি দিয়ে বের হওয়া সৌদি পতাকাবাহী তেলবাহী জাহাজে হামলা শুরু করার পর মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়া যুদ্ধে সৌদি আরবও জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে পড়েছে। একই সময়ে হুথিরা ইরানের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলকে কেন্দ্র করে হামলা চালাচ্ছে।
শনিবার হুথিরা সৌদি আরবের অভ্যন্তরে অনেক গভীরে হামলা চালায়, যার মধ্যে প্রায় ৮০ লাখ মানুষের শহর রাজধানী রিয়াদও রয়েছে।
গত মাসে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর তুরস্কের জন্য এই হামলা বিশেষভাবে উদ্বেগের বিষয়। চুক্তি অনুযায়ী, কোনো একটি দেশের ওপর হামলাকে অন্য দেশগুলোর ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করার কথা বলা হয়েছে – যা ন্যাটোর আর্টিকেল ৫-এর সঙ্গে তুলনীয়।
এএফপির বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ফিদান আরও জানান, সৌদি আরবের কিছু সামরিক প্রয়োজন থাকতে পারে এবং প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় তুরস্ক তাদের সহায়তার বিষয়টি বিবেচনা করবে।
অন্যদিকে শনিবার ইরান-সমর্থিত হুথিরা দাবি করে, তারা সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং দেশটির লোহিত সাগর উপকূলীয় বন্দরনগরী ইয়ানবুর তেল স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। সৌদি রাজধানীতে বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কয়েক ঘণ্টা পর এই দাবি আসে।

হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক বিবৃতিতে বলেন, সানাকে লক্ষ্য করে সৌদি আরবের অপরাধমূলক প্রচেষ্টার জবাবে তারা ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করে দুটি সামরিক অভিযান চালিয়েছে। তার দাবি অনুযায়ী, প্রথম হামলায় রিয়াদের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো এবং দ্বিতীয় হামলায় ইয়ানবুতে সৌদি আরামকোর স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করা হয়।
তবে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বলতে ঠিক কী বোঝানো হয়েছে, তা হুথিরা স্পষ্ট করেনি। কিন্তু একটি হামলার লক্ষ্য রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে সৌদি আরামকোর একটি জ্বালানি সংরক্ষণাগার হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এএফপির এক সাংবাদিকের প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে একটি জ্বালানি ডিপোর ট্যাংকে আগুন লাগে এবং অগ্নিনির্বাপক কর্মীরা তা নিয়ন্ত্রণে আনেন। ট্যাংকটিতে সৌদি তেল কোম্পানি আরামকোর লোগো ছিল।
ইয়ানবুতে হামলার বিষয়টি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ শহরটি ইয়েমেন-সৌদি সীমান্ত থেকে প্রায় ৭০০ মাইল উত্তরে লোহিত সাগরের উপকূলে অবস্থিত। রিয়াদও সীমান্ত থেকে ৭০০ মাইলেরও বেশি দূরে। ফলে এসব হামলা সৌদি ভূখণ্ডের অনেক গভীরে পৌঁছে যাওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করছে।
নওরিন-২০/ডিএসই-৯
