Thursday, September 3

সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ দ্রুত গ্রেফতারের নির্দেশ – ব্যর্থতায় কঠোর ব্যবস্থা : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সম্প্রতি দুষ্কৃতকারীদের হামলায় আহত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. মো. আসাদুর রহমানকে দেখতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ – ছবি : সংগৃহিত

ঢাকা : আজ শনিবার (২২ আগস্ট) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আজ রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সম্প্রতি দুষ্কৃতকারীদের হামলায় আহত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. মো. আসাদুর রহমানকে দেখতে গিয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকাসহ সারাদেশে চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন।

তিনি বলেন, সারাদেশে বিশেষ করে ঢাকা মেট্রোপলিটনসহ অন্যান্য মেট্রো এলাকায় যারা এরকম চিহ্নিত চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী, তাদেরকে (আমি টাইম লিমিট দিচ্ছি না) অতিশীঘ্র যদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হেফাজতে না নিতে পারে, আইনের আওতায় আনতে না পারে, তাহলে যারা যারা ব্যর্থ হবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে উক্ত সংঘবদ্ধ চক্রের সাতজন সদস্যের মধ্যে মূল হোতাসহ চারজনকে সফলভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মন্ত্রী দ্রুততম সময়ে অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করায় পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)-র প্রশংসা করেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে মন্ত্রী বলেন, চক্রটির মূল হোতা বিদেশে থাকাকালীন হুন্ডি ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে দেশে ফিরে অপরাধমূলক চক্র গড়ে তোলে। বড় বড় হাসপাতাল, খ্যাতিমান চিকিৎসক, প্রকৌশলী ও ধনাঢ্য পেশাজীবীদের টার্গেট করে ভয়ভীতি প্রদর্শন, বার্তা প্রেরণ এবং পরবর্তীতে শারীরিক হামলা চালিয়ে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করাই ছিল এই চক্রের মূল উদ্দেশ্য। তিনি বলেন, চাঁদাবাজদের এ ধরনের কোনো অপতৎপরতা সহ্য করা হবে না এবং চাঁদাবাজি পুরোপুরি নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

পুলিশের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, “আমরা কেবল চাঁদাবাজ বা অপরাধীদের তালিকাই তৈরি করছি না, এসব চাঁদাবাজির সাথে পুলিশের সদস্য জড়িত থাকার সন্দেহেও তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে।” তিনি বলেন, অপরাধী বা তাদের মদদদাতা যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

ডাক্তার ও বিভিন্ন পেশাজীবীদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দেশের স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশের ৫০০টি হাসপাতালে ১০ জন করে আনসার সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে।

এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দেশের যেকোনো নাগরিক বিদ্যমান আইন অনুযায়ী শর্ত পূরণ সাপেক্ষে শর্ট গান বা পিস্তলের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারেন। কোনো চিকিৎসক যদি নিজের নিরাপত্তায় ব্যক্তিগত আগ্নেয়াস্ত্রের প্রয়োজন মনে করে আবেদন করেন, তবে সরকারের বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী তা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হবে।

এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ, অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি প্রধান) মোঃ শফিকুল ইসলাম, ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান প্রমুখ।

হামিম-২২/ডিএসই-৮