Tuesday, August 11

কেউ দলের সিদ্ধান্তের বিপক্ষে ভোট দিলে তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল হবে

ছবি : জাতীয় সংসদ

ঢাকা : রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সামনে রেখে মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে ব্রিফিংয়ে সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেছেন,”সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ যেহেতু সংশোধিত হয়নি, সুতরাং এটা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কার্যকর হবে।”

এর আগে সকাল ১১টায় জাতীয় সংসদের কেবিনেট কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে প্রস্তুতিমূলক সভা হয়, যেখানে সভাপতিত্ব করেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল।

সভায় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এবং হুইপদের মধ্যে মো. জি কে গউছ, রকিবুল ইসলাম বকুল, মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ, মো. আখতারুজ্জামান মিয়া ও এ. বি. এম আশরাফ উদ্দিন নিজান অংশগ্রহণ করেন।

চিফ হুইপ ৭০ অনুচ্ছেদ তুলে ধরে বলেন, দলের সিদ্ধান্তের বাইরে এমপিরা কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না। কেউ দলের সিদ্ধান্তের বিপক্ষে ভোট দিলে তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল হবে।

ক্ষমতাসীন বিএনপির পাশাপাশি ১১ দলীয় জোটেরও যেহেতু প্রার্থী থাকছে ফলে বিগত দিনের মত এবার একক প্রার্থীর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ থাকছে না।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটদানের প্রক্রিয়া তুলে ধরে চিফ হুইপ বলেন, “সংসদ সদস্যরা প্রার্থীর সামনে তার নাম লিখবেন প্রকাশ্যে, বিভক্তি সংখ্যা লিখবেন । কাজেই আমি কাকে ভোট দিচ্ছি তা জানা যাবে।”

তিনি বলেন, ভোটের দিন সংসদ কক্ষে বৈঠক ডাকবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। এই বৈঠকে যার যার আসনে সংসদ সদস্যরা বসবেন। নির্বাচনী কর্তা হিসেবে প্রধান নির্বাচন কমিশনারই বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন।

তফসিল অনুযায়ী বেলা ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ভোট হবে। এক ঘণ্টার মধ্যে ভোট শেষ হয়ে গেলে গণনা করে ফল ঘোষণা করা হবে। কোনো ভোটার দেরি করলে ৫টা পর্যন্ত সময় থাকবে।

নুরুল ইসলাম মনি বলেন, “রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ভোট দেওয়ার সময় গণমাধ্যমে দেখানো হবে। পরে সংসদ সদস্যরা নির্ধারিত সময় ভোট দেবেন। সবাই ভোট দেওয়ার পর গণনা করা হবে।”

সংবাদ সম্মেলনে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী বিএনপির দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করবেন – তখন আপনারা আমরা সবাই একসঙ্গে জানব

নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে ‘জুলাই সনদ’ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন উচিত ছিল মন্তব্য করে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন “যেহেতু গণভোটের রায়ও সংস্কারের পক্ষে এসেছে, তাই ৭০ অনুচ্ছেদ সংস্কার করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা যেত। তাহলে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি আরও বেশি সম্মানিত ও গ্রহণযোগ্য হত।

“তারপরেও যেহেতু নির্বাচন হচ্ছে, এটাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দিতে চাই না। আমরা সে কারণে বিরোধী দলের জায়গা থেকে প্রার্থী দিয়েছি।”

এ প্রসংগে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি দাবি করেন, জুলাই সনদ অনুযায়ীও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ৭০ অনুচ্ছেদ প্রযোজ্য হবে। ৭০ অনুচ্ছেদে অর্থবিল ও আস্থাভোট ছাড়া অন্য যেকোনো ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে মত দিতে পারবেন।

রেজা-১১/ডিএসই-৮