
ঢাকা : সোমবার নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ সোমবার বলেন, “স্থানীয় সরকারের ৫ স্তরের ( ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন, উপজেলা পরিষদ ও জেলা পরিষদ ) নির্বাচনের আচরণবিধি ইসির অনুমোদন হয়েছে। মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। ভেটিং হলে তা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।”
নতুন বিধিমালার খসড়ায় সংসদ নির্বাচনের মত স্থানীয় নির্বাচনেও পোস্টার নিষিদ্ধ রাখা হয়েছে। তবে ব্যানার, লিফলেট, ফেস্টুন এবং সীমিত সংখ্যায় বিলবোর্ড ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে।
বিলবোর্ডের সর্বোচ্চ আকার ১৬ ফুট বাই ৯ ফুট। ব্যানারের আকার সর্বোচ্চ ১০ ফুট বাই ৪ ফুট, লিফলেট বা হ্যান্ডবিল এ-ফোর আকারের এবং ফেস্টুনের আকার ১৮ ইঞ্চি বাই ২৪ ইঞ্চি নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রচারসামগ্রী সাদাকালো রাখার বিধানও রয়েছে। ফেস্টুন ও হ্যান্ডবিলে মুদ্রণের তারিখ না থাকা, পলিথিনের আবরণ ও পিভিসি ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রচারসামগ্রীতে প্রার্থীর নিজের ছবি ও প্রতীক ছাড়া অন্য কিছু ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়নি।
প্রতীক ব্যবহারের ক্ষেত্রেও আকারের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতীকের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ বা উচ্চতা ছয় ফুটের বেশি হতে পারবে না। প্রচারে জীবন্ত প্রাণী ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
নতুন আচরণবিধিতে মাইক ব্যবহারের সময়সীমা কমিয়ে বেলা ১২টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত মাইক বা শব্দবর্ধক যন্ত্র ব্যবহার করে প্রচারণার নিয়ম করা হয়েছে। একাধিক মাইক্রোফোন ব্যবহারের সুযোগ থাকবে না।
একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের ব্যয় নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাবে দেখানো এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অপব্যবহার ঠেকাতে বিধান রাখা হয়েছে।
সচিব জানান, প্রকাশিত খসড়ার মূল কাঠামো প্রায় অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে শব্দগত পরিমার্জন ও সংযোজন করা হয়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আচরণবিধির সঙ্গে সমন্বয় করে পোস্টার বাদ দেওয়া হয়েছে; প্রচারের অন্যান্য বিষয় রাখা হয়েছে।
পোস্টার ছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ব্যানার, লিফলেট ও ফেস্টুনের পাশাপাশি প্রথমবারের মতো বিলবোর্ড ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে।
খসড়ায় বলা হয়েছে, সিটি করপোরেশন ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রতি ওয়ার্ডে একটি করে বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সর্বোচ্চ ২০টি এবং জেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতি থানা বা উপজেলায় একটি করে বিলবোর্ড ব্যবহারের সুযোগ থাকবে।
আচরণবিধিতে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ব্যক্তিদের প্রচারণায় অংশ নেওয়ার বিষয়ে বিধিনিষেধ রাখা হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান, মেয়র, প্রশাসক বা সংশ্লিষ্ট পরিষদের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকবে না।
আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে জরিমানার পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। নতুন বিধিমালায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। গুরুতর আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতার বিধানও যুক্ত করা হয়েছে।
কানিজ-৯/ডিএসই-৮
