Sunday, November 1

ভবিষ্যৎবানী : সেপ্টেম্বর ২০২৮-এর মধ্যে আমেরিকার পতন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ‘আমেরিকার নস্ট্রাডামাস’ নামে পরিচিত জন হোগ ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, ২০২৮ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার পতন, পারমাণবিক হামলা এবং ২৭ বছরব্যাপী একটি বিশ্বযুদ্ধের সূচনা হতে পারে। তার দাবি, বিশ্ব এমন এক ভয়াবহ অস্থিরতার মুখোমুখি হতে পারে, যার প্রভাব পড়বে আন্তর্জাতিক রাজনীতি, অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহের ওপর। তাই পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আগেই জীবনের আনন্দ উপভোগ করে নেওয়া উচিত।

মার্কিন লেখক জন হোগ গত চার দশক ধরে বিখ্যাত ফরাসি জ্যোতিষী নস্ট্রাডামাসের নামে প্রচলিত ভবিষ্যদ্বাণীগুলো বিশ্লেষণ করে আসছেন। নস্ট্রাডামাস মূলত তাঁর দুর্বোধ্য ও রহস্যময় ভবিষ্যদ্বাণীমূলক লেখার জন্য পরিচিত।

হোগ সম্প্রতি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সান-এর কাছে তাঁর ভবিষ্যৎবাণীগুলো তুলে ধরেন। সেখানে তিনি কয়েক শতাব্দী আগের কিছু লেখার সঙ্গে বর্তমান বিশ্বের ঘটনাপ্রবাহের যোগসূত্র স্থাপনের চেষ্টা করেছেন।

তার বর্ণিত অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, ডিজেলের তীব্র সংকট এবং নিয়ন্ত্রণহীন মূল্যস্ফীতি। পাশাপাশি ক্রমবর্ধমান জাতীয় ঋণ, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভাজনমূলক নেতৃত্বকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পতনের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

দ্য সান-কে হোগ বলেন, প্রচলিত অস্ত্রের মজুত ফুরিয়ে এলে পশ্চিমা দেশগুলো পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের দিকে ঝুঁকতে পারে। তিনি ইরানের ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনাগুলোকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে ‘মাউন্ট পিকঅ্যাক্স’ নামে পরিচিত একটি স্থানের কথাও রয়েছে। তার মতে, এসব স্থাপনায় আঘাত হানতে ভূগর্ভে প্রবেশ করতে সক্ষম পারমাণবিক ওয়ারহেড ব্যবহার করা হতে পারে।

তার দাবি, ইউরোপীয় দেশগুলো সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়লে রাশিয়া অস্ত্র উৎপাদনকারী কারখানাগুলো লক্ষ্য করে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে পারে। পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হলে কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার শুরু হতে পারে। হোগের ব্যাখ্যায়, এমন পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধে রূপ নিতে পারে।

তবে এগুলো তার নিজস্ব ব্যাখ্যা ও সম্ভাব্য পরিস্থিতি সম্পর্কে অনুমান।

হোগের সবচেয়ে ভয়াবহ পূর্বাভাসগুলোর একটি হলো প্রায় ২৭ বছর ধরে চলতে পারে এমন একটি বিশ্বযুদ্ধ। এ ক্ষেত্রেও ২৭ সংখ্যাটির ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন।

তিনি নস্ট্রাডামাসের কয়েকটি কবিতার নিজস্ব অনুবাদ ও ব্যাখ্যার ওপর নির্ভর করে এই দাবি করেছেন। তাঁর উল্লেখ করা একটি অনূদিত অংশে রয়েছে, ‘সাতাশ বছর ধরে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ চলবে’।

হোগ এই দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের সূচনাকে ‘মাবুস’ (Mabus) নামে এক রহস্যময় ব্যক্তির মৃত্যুর সঙ্গে যুক্ত করেছেন।
তার ব্যাখ্যায়, ‘মাবুস’ বলতে সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে বোঝানো হয়ে থাকতে পারে, যিনি সাধারণভাবে ‘এমবিএস’ নামে পরিচিত।
তবে এটি সম্পূর্ণভাবে হোগের নিজস্ব ব্যাখ্যা।

নস্ট্রাডামাসের লেখায় ওই নামের মাধ্যমে সৌদি যুবরাজকেই নির্দিষ্টভাবে বোঝানো হয়েছে—এমন কোনো প্রতিষ্ঠিত প্রমাণ নেই।

হোগের ধারণা, ওই রহস্যময় ব্যক্তির মৃত্যু হত্যাকাণ্ড, প্রাসাদ অভ্যুত্থান, বিমান দুর্ঘটনা কিংবা কোনো বিস্ফোরণের মাধ্যমে ঘটতে পারে। তার মতে, এমন একটি ঘটনা পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনাসহ ব্যাপক আন্তর্জাতিক সংঘাতের সূচনা করতে পারে।
তিনি আরও দাবি করেন, এই যুদ্ধ পশ্চিম এশিয়ার তেল, হিলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস শিল্পকে ধ্বংস করে দিতে পারে। এতে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকবে।
হোগের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এর পরিণতিতে দীর্ঘস্থায়ী খাদ্য ও পানির সংকট, ক্ষুধা, তৃষ্ণা এবং ব্যাপক বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারে। মানুষ ও প্রাণী—উভয়কেই এর ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হতে পারে।

এতসব অন্ধকারাচ্ছন্ন পূর্বাভাস সত্ত্বেও হোগ দাবি করেছেন, মানুষকে আতঙ্কিত করাই তার উদ্দেশ্য নয়। বরং এসব সতর্কবার্তার মাধ্যমে তিনি বিশ্ববাসীকে সম্ভাব্য বিপদের বিষয়ে সচেতন করতে এবং সহিংসতার পরিবর্তে শান্তির পথ বেছে নিতে উৎসাহিত করতে চান।

সূত্র : মেট্রো ইন্টারন্যাশনাল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক -২৭/ডিএসই-১০