
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মানবিক সহায়তা সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস (Médecins Sans Frontières—MSF)-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, চাদে সংস্থাটির কর্মীদের যৌন অসদাচরণের ব্যাপকতা সম্পর্কে সুইস কর্তৃপক্ষকে যথাযথভাবে অবহিত করতে তারা ব্যর্থ হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সুইজারল্যান্ডের উন্নয়ন ও সহযোগিতা সংস্থা (Swiss Agency for Development and Cooperation—SDC) MSF-কে দেওয়ার জন্য নির্ধারিত ১২ লাখ ৫০ হাজার সুইস ফ্রাঁ (১৫ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার) অর্থায়ন স্থগিত করেছে। স্থগিত করা অর্থ চলতি বছরের জন্য প্রতিশ্রুত মোট ৬২ লাখ ৫০ হাজার সুইস ফ্রাঁর একটি কিস্তি।
জার্মান ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম NZZ Am Sonntag-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, MSF-এর অভ্যন্তরীণ তদন্তে যৌন সহিংসতা ও শোষণ সংক্রান্ত ৫৯টি অভিযোগের তথ্য উঠে এসেছে। এসব অভিযোগের মধ্যে বিশেষভাবে প্রতিবেশী সুদান থেকে আসা শরণার্থী নারী ও অল্পবয়সী মেয়েদের সংশ্লিষ্টতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় সংস্থাটির ১৮ জন কর্মীকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ছয়জন MSF-এর সুইজারল্যান্ড শাখার কর্মী।
মধ্য আফ্রিকায় সংঘাত চলার মধ্যে ২০২৩ সাল থেকে ওই অঞ্চলে বড় ধরনের মানবিক সংকট বিরাজ করছে। সুদানের গৃহযুদ্ধ থেকে পালিয়ে লাখ লাখ মানুষ প্রতিবেশী দেশ চাদে আশ্রয় নিচ্ছেন।
NZZ ঘটনাটিকে ‘ব্যাপক যৌন শোষণ’ হিসেবে বর্ণনা করে লিখেছে, ‘”যৌন সম্পর্কের বিনিময়ে অর্থ, চাকরি কিংবা মানবিক সহায়তা : অভিযোগ রয়েছে, কর্মীরা শরণার্থী নারী ও কিশোরীদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়েছেন।”
জার্মান ভাষার সংবাদপত্রটি উল্লেখ করেছে, ২০২৪ সালের নভেম্বরেই SDC প্রথম অভিযোগের ইঙ্গিত পেয়েছিল। ‘অভ্যন্তরীণ ইমেইলগুলো এখন প্রকাশ করছে তথ্য সম্পর্কে আগে থেকেই অবগত থাকা সত্ত্বেও সুইস কনফেডারেশন ব্যবস্থা নিতে কতটা অনিচ্ছুক ছিল।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সুইস পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সম্মত হওয়া হয় যে জানুয়ারিতে MSF-এর সঙ্গে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু বিষয়টি কীভাবে মোকাবিলা করা হবে, তা নিয়ে মন্ত্রণালয় আবার আলোচনা শুরু করে ২০২৫ সালের জুন ও জুলাই মাসে।
এর মধ্যে MSF-এর কাছে নির্যাতনের কয়েক ডজন অভিযোগ পৌঁছায় এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়। তবে SDC-কে এসব তথ্য জানানো হয়নি।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে SDC ও MSF-এর প্রতিনিধিরা যৌন শোষণ প্রতিরোধে সুরক্ষাব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করতে বৈঠকে বসেন। কিন্তু সে সময়ও কনফেডারেশনকে নতুন কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
২০২৬ সালের জুনে AP-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের মাধ্যমে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর SDC, MSF-এর কাছে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র দাবি করে।
সুইস পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, MSF তাদের সঙ্গে করা চুক্তিতে নির্ধারিত তথ্য জানানোর বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘন করেছে। NZZ লিখেছে, সংস্থাটির প্রতি সুইস সরকারের অবিশ্বাস এখন ‘চরম পর্যায়ে’ পৌঁছেছে। যদিও MSF শেষ পর্যন্ত নিজেদের ভুল স্বীকার করেছে।
সুইস সরকার সংস্থাটির বিরুদ্ধে আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং একটি বহিরাগত তদন্ত পরিচালনার সম্ভাবনা বিবেচনা করছে। ২০২৭ সাল থেকে সুইজারল্যান্ডের অংশীদার বেসরকারি সংস্থাগুলোর জন্য তথ্য প্রকাশ ও প্রতিবেদন দাখিলের বাধ্যবাধকতা আরও কঠোর করা হবে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক-২৬/ডিএসই-১০
