
রেজাউল করিম : We Revolt – এই ঘোষণাতেই দেশজুড়ে মূলত সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে উদ্দীপ্ত হয়েছিল বাংলাদেশ।
সেই বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে ৪৮ বছর আগে যে বিএনপির পথচলা, বেগম জিয়ার ব্যক্তিত্বময় দৃঢ়তা ও আপসহীন নেতৃত্বে গড়ে ওঠা দলটির কাছে ৪৮ বছরে জনগণের প্রত্যাশা কতটা পূরণ হয়েছে?

১৯৯০-এর এরশাদবিরোধী আন্দোলনে আপসহীন নেতৃত্বের পর ১৯৯১ সালে দেশের জনগণ আস্থা রেখেছিল বেগম জিয়ার ওপর। তিনি যথেষ্ট চেষ্টাও করেছেন কিন্তু কিছু চিহ্নিত বিএনপি পরিচয়ধারীদের লুটপাট দখলবাজির সুযোগে জনপ্রিয়তায় ধস নামে।এরই মধ্যে ৯৬’র ১২ ফেব্রুয়ারীতে যেমন-তেমন নির্বাচন দিয়ে সরকারে টিকে থাকার চেষ্টায় সাধারণ জনগণের একাংশ আওয়ামী লীগের আন্দোলনে সমর্থন দিলে দেশজুড়ে প্রতিবাদের মুখে বিএনপির সরকার গণবিরোধী সরকারে পরিনত হয়। এই সুযোগে শেখ হাসিনা মাথায় হজ্জের কালো-কাপড় বেঁধে সুফির চেহারায় আমার বাপ নাই মা নাই “একবার সুযোগ দিন” বলে কান্নাকাটি করে বিএনপির অত্যাচরে মর্মাহত জনগণ আওয়ামী লীগকে সুযোগ দেয়! এরপরও বেগম জিয়ার প্রতি আস্থা ছিলো প্রায় ৩৪% ভোটারের।
আওয়ামী লীগের খুন, ধর্ষনের উৎসব, দখল-লুটের সীমা বিএনপিকে ছাড়িয়ে গেলে আবার বেগম জিয়ার প্রতি সাধারণ মানুষ নির্ভরতা খুঁজে। এখানে মনে রাখতে হবে, সেসময়ও দল হিসেবে বিএনপির গ্রহণযোগ্যতার চেয়ে বেগম জিয়ার ব্যক্তিত্বেই এদের মানুষ প্রভাবিত ছিল বেশি।

২০০১ এ ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগের সাথে আবার লুট চাঁদাবাজি আর দখলের প্রতিযোগীতায় নামে বিএনপি ! একই সাথে প্রশাসনে নির্লজ্জ দলীয়করন আর তাদের সীমাহীন স্বেচ্ছাচারিতায় রাজপথে আওয়ামী লীগের আন্দোলন বাড়তে থাকে। প্রতিদিন রাজনৈতিক সহিংসতায় খুন গুমে জনগন যখন বিরক্ত সেই সুযোগে ডেইলি স্টারের মাহফুজ আনাম, প্রথম আলোর মতিউর রহমান, আমাদের সময়ের নাঈমুল ইসলাম খানদের গোপন প্ররোচনায় ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার প্রত্যক্ষ প্রভাবে সেনা নিয়ন্ত্রিত ১/১১-এর সরকার দায়িত্ব নেয় এবং ভারতের প্রনব মূখার্জিদের সরাসরি প্রভাবে একটি পরিকল্পিত নির্বাচনের মাধ্যমে হাসিনার হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে। এরপরের ইতিহাস সবার জানা।
এই লম্বা সময়ের আন্দোলনে বিএনপির চিহ্নিত রাজনীতিবিদদের অনেকেই আওয়ামী লীগের দালাল হয়ে নিজের এবং বিগত শাসনামলে লুটের টাকা ও সম্পদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। গোপন আঁতাতে বিএনপির সকল আন্দোলনও ব্যর্থ হয়েছে।বিপদগ্রস্ত ছিল শুধুমাত্র বেগম জিয়া ও তাঁর সন্তানরা। তারা নির্যাতিত হয়েছে, লাঞ্ছিত হয়েছে, অপমানিত হয়েছে।

ক্যান্টনমেন্ট থেকে বেগম জিয়াকে বিতাড়িত করার সময় কোনো প্রতিরোধ তারা তৈরি করেনি। গুলশানে বাসার সামনে বালুর ট্রাক দেওয়ার সময় দলটির কাউকে দেখা যায়নি। বেগম জিয়াকে জেলে পাঠানোর সময় লম্বা মিছিল করে তাঁকে জেলে পৌঁছে দিয়েছে, কিন্তু কোনো প্রতিরোধ গড়ে তোলেনি। বেগম জিয়ার চিকিৎসাও তারা নিশ্চিত করতে পারেনি।
ব্যাপারটা এমন নয় যে দলটির নিবেদিত কর্মী ছিল না। আওয়ামী লীগের রেল, বাস, লঞ্চ বন্ধ করে দেওয়ার পরও দূর-দূরান্ত থেকে হেঁটে, সাইকেলে, সাঁতরে জনসভা সফল করতে হাজার হাজার কর্মী এসেছে। সেখানে রান্না করে খেয়েছে, রাত কাটিয়েছে – তারপরও সব আন্দোলন ব্যর্থ হয়েছে চিহ্নিত ও সুবিধাবাদী দালালদের গোপন আঁতাতের কারনে। এ্যারেস্ট হওয়ার আগে দলীয় সভায় বেগম জিয়া ওদের মোবাইল ফোন বাইরে রেখে আসতে বলতেন কারন তিনি সন্দেহ করতেন পরিকল্পনার খবর তারা রেকর্ড করে হাসিনাকে পৌঁছে দেয় !
’২৪-এর অভ্যুত্থানের পর জেল থেকে ১০ আগস্ট ছাড়া পেয়েই দেশের এই ক্রান্তিকালীন সময়েও বিএনপি চাঁদাবাজি, লুট আর দখলের ওপর ‘১৭ বছর খাই নাই’ বলে ঝাঁপিয়ে পড়ে। আর আন্দোলন সফলকারী ছাত্ররা তখন রাষ্ট্রীয় সম্পদ পাহারা দিয়েছে, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছে, আইন নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীর পাশে থেকেছে – আর বিএনপি তখন রাস্তাবন্ধ করে একের পর এক আন্দোলন আর চারদিকে লুটপাট করেছে।
জনমনে তাদের গ্রহণযোগ্যতা যখন প্রায় শূন্য, তখন তারেক জিয়ার বক্তব্যে জনগণ আবার আশায় ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। জিয়া ও বেগম জিয়ার সন্তান তারেক জিয়ার জন্য দেশ অপেক্ষা করেছে। প্রত্যাশা করেছে তিনি এলে নিশ্চয়ই নিযর্যাতনকারী খুনিদের বিচার করবেন আর তার দলীয় চাঁদাবাজদের কঠোর ভাবে দমন করবেন। তিনি দেশে আসার পর স্বাধীনতার পর সবচেয়ে স্বচ্ছ নির্বাচনে জনগণ জানিয়েছে তাদের পছন্দ এখন তারেক রহমান।

৪৮ বছরের দল হিসেবে এখনও বিএনপি জনগণের কাছে আওয়ামী লীগের মতোই চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী একটা দল হলেও বিএনপির প্রতীক তারেক রহমানের প্রতি গণমানুষের অগাধ বিশ্বাস আছে।
এ কারণেই এখন সবাই বলে, দল বিএনপির চেয়ে ব্যক্তি তারেক জিয়া অনেক বেশি জনপ্রিয়।
যদিও দলটির নেতাকর্মীরা নগর, বন্দর, উপজেলা, ইউনিয়ন – সকল স্থানে ত্রাস, চাঁদাবাজি, লুট, মাদক, ময়লা, ইন্টারনেট, সরকারি টেন্ডার ব্যবসা সহ সকল অপকর্মে “১৭ বছর খাই নাই” বলে এমনভাবে চলছে যে তারেক রহমানের জনপ্রিয়তা হুমকির মুখে।
ওরা এভাবেই বেগম জিয়ার জনপ্রিয়তাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছিল।
রাস্তার ফকির থেকে শতশত কোটি টাকার মালিক বিএনপির চিহ্নিতরা দল না, নিজেদের সম্পদ বাড়ানের প্রতি মনযোগী। বিএনপির চেয়ারম্যান এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে জনগন প্রত্যাশা করে তিনি ওদের কঠোর ভাবে প্রতিহত করবেন। মনে রাখবেন, জনগন যখন আপনার, তখন ওদের মত চিহ্নিত লুটেরাদের বিএনপির প্রয়োজন নেই।
ডিএসই-সেপ্টেম্বর-১
