
ঢাকা : কোনো সাক্ষী আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান সাহেদ করিম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদসহ আটজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলায় সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ বুধবার পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সাক্ষীদের অনুপস্থিতির কারণ দেখিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রসিকিউটর সময় আবেদন করলে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬-এর বিচারক মো. জাকারিয়া হোসেন তা মঞ্জুর করেন এবং পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ৪ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন।
কারাগারে থাকা সাহেদকে আদালতে হাজির করা হয়। জামিনে থাকা অন্য আসামিরাও আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
অন্য আসামিরা হলেন—ডিজিএইচএসের সাবেক পরিচালক আমিনুল হাসান, উপপরিচালক (হাসপাতাল-১) ইউনুস আলী, সহকারী পরিচালক (হাসপাতাল-১) শফিউর রহমান এবং গবেষণা কর্মকর্তা দিদারুল ইসলাম।
যদিও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদকে শুরুতে মামলার আসামি করা হয়নি, তদন্তের সময় তার নাম উঠে আসে এবং পরে অভিযোগপত্রে তাকে আসামি করা হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে অনিবন্ধিত ও নবায়ন না করা রিজেন্ট হাসপাতালকে কোভিড-১৯ চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত হাসপাতাল হিসেবে ঘোষণা করেন। পাশাপাশি সরকারি প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব প্রিভেন্টিভ অ্যান্ড সোশ্যাল মেডিসিনে (নিপসম) বিনামূল্যে কোভিড-১৯ নমুনা পরীক্ষার সুযোগ করে দিতে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেন।
অভিযোগপত্র অনুযায়ী, নিপসমে রিজেন্ট হাসপাতালের ৩ হাজার ৯৩৯টি কোভিড-১৯ নমুনা পরীক্ষা করা হয়। প্রতিটি নমুনার জন্য রিজেন্ট হাসপাতাল ৩ হাজার ৫০০ টাকা করে নেয়। এতে মোট ১ কোটি ৩৭ লাখ ৮৬ হাজার টাকা আদায় করা হয়।
এ ছাড়া আসামিদের বিরুদ্ধে রিজেন্ট হাসপাতালের মিরপুর ও উত্তরা শাখার চিকিৎসক, নার্স, ওয়ার্ডবয় ও অন্যান্য কর্মীদের খাবারের খরচ বাবদ মাসে ১ কোটি ৯৬ লাখ ২০ হাজার টাকা দাবি করার এবং ওই অর্থের দাবিপত্রের খসড়া স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
২০২২ সালের ১২ জুন আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এ পর্যন্ত মামলাটিতে আদালত ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন।
কানিজ-০২/ডিএসই-৯
