Monday, November 2

জুলাই হত্যা মামলার আসামি পাঁচ আওয়ামী লীগ নেতার প্রতিষ্ঠানকে ৮০৫ কোটি টাকার কাজ

বিশেষ প্রতিনিধি : ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে চলতি বছরের ৫ অক্টোবর – এই এক বছর তিন মাসে ২ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার ঠিকাদারি কাজের মধ্যে যুবলীগের শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক আবদুল হাই সহ জুলাই হত্যাকাণ্ডের মামলার আসামি পাঁচ আওয়ামী লীগ নেতার মালিকানাধীন বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে ৮০৫ কোটি টাকার কাজ দিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। যা মোট কাজের প্রায় ২৯ শতাংশ।

আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ন্ত্রিত ছয় প্রতিষ্ঠান হলো :
মাইশা কনস্ট্রাকশন লিমিটেড, এইচ এম হেলাল অ্যান্ড কোং লিমিটেড, আসিফ ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড, এম এস আলিফ ট্রেডার্স, ইউটোফিয়া কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড ও জনি এন্টারপ্রাইজ।

ই-জিপির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে গত ৫ অক্টোবর পর্যন্ত ডিএনসিসিতে ৫৬৮টি কার্যাদেশ হয়েছে। এসব কাজের মোট মূল্য ২ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৫২৫টি দরপত্রে ২ হাজার ৭৫৫ কোটি টাকার কাজ হয়েছে উন্মুক্ত দরপদ্ধতিতে (ওটিএম)।

সীমিত দরপদ্ধতিতে (এলটিএম) হয়েছে ৬৪ লাখ টাকার একটি কাজ। এ পদ্ধতিতে নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। সিঙ্গেল সোর্স ও আরএফকিউ (কোটেশন চেয়ে কাজ দেওয়ার পদ্ধতি) পদ্ধতিতে ৪২টি কাজ হয়েছে ২০ কোটি ৪৮ লাখ টাকায়।

এসব দরপত্রে কাজ করেছে ১৯৩টি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে ১০৪টি প্রতিষ্ঠান একটি করে কাজ পেয়েছে। একাধিক কাজ করেছে ৮৯টি। তাদের মধ্যে ২৫টি প্রতিষ্ঠান ২৪০টি দরপত্রে ১ হাজার ৯১০ কোটি টাকার কাজ করেছে। এটি মোট কাজের প্রায় ৭০ শতাংশ। এসব প্রতিষ্ঠানের বড় একটি অংশ আওয়ামী লীগ নেতাদের বা তাদের ঘনিষ্ঠদের প্রতিষ্ঠান।

নৌবাহিনীর প্রতিষ্ঠান ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেড পাঁচটি দরপত্রে ৫২ কোটি ৮৬ লাখ টাকার কাজ পেয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ঠিকাদার ও প্রকৌশলীর বলেছেন, ই-জিপিতে এসএলটি ও টিডিএসের ভিত্তিতে কাজ দেওয়া হলেও সেখানে ডিজিটাল জালিয়াতি হয়। তবে এটি শুধু এখানেই নয়, সব সরকারি প্রতিষ্ঠানেই হয়।

অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন বলেন, ‘সিটি করপোরেশনে দরপত্রের কার্যক্রম ইজিপিতে হয়। এখানে যারা এসএলটিতে ও টিডিএসে এগিয়ে থাকে তারা কাজ পায়। কোনো ধরনের ম্যানিপুলেশনের সুযোগ থাকে না। যেসব ঠিকাদার যোগ্যতার অভাবে কাজ পায় না তারা ম্যানিপুলেশনের অভিযোগ তোলেন।

কানিজ-২৭/ডিএসই-১০