
ঢাকা : আজ রোববার ( অক্টোবর ) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে এবি পার্টি আয়োজিত এক আলোচনায় কথা বলছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক এবং কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ।
তিনি বলেন, বিএনপি গেল ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ১৭ বার জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছে। উনারা প্রতিদিন একটা প্রতিশ্রুতি ভাঙেন এই জুলাই সনদের, প্রতি অধিবেশনে ও প্রতি সেশনে। ভাঙার পরে আবার দম্ভভরে ঘোষণা দেন, আমরা জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করব। এই অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করব বলে ইতোমধ্যেই ১৭টা ধারায় উনারা জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। আমি একটা একটা করে বলে যেতে পারব।
এক নম্বর প্রতারক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মন্তব্য করে হাসনাত বলেন, আমাদের পাবলিক গ্রিভেন্স রিড্রেস সেল করার কথা ছিল, দেখলাম এই অধ্যাদেশটাকেও বাতিল করে দেওয়া হয়েছে।
দ্বিতীয় প্রতারণার বিষয়ে পুলিশ বাহিনীতে চাকরির নিরাপত্তা নিয়ে সমস্যার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ক্যান্টনমেন্ট থানার এক ওসি বলছে যে থানায় পোস্টিং নিতে গেলে এক-দুই কোটি টাকা ঘুষ দিতে হয়। এই ঘুষ বাণিজ্য আগে পরিচালনা করতেন সালাহউদ্দিন আহমদের ছেলে, এখন করছেন উনার ভাগিনারা। আপনি যদি ওসি বা এসপি হতে চান, ভাগিনাকে ঘুষ দিলে হয়ে যেতে পারবেন।
তিনি প্রশ্ন করে বলেন, এমন বাংলাদেশ কি আমরা চেয়েছিলাম? আমরা কি এমন জুলাই সনদ চেয়েছিলাম?
স্বাধীনতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য হিসাব ও নিরীক্ষা বিভাগকে আলাদা করার কথা ছিল মন্তব্য করে তিনি দাবি করেন, নির্বাহী বিভাগের আদেশেই এটি করা সম্ভব ছিল, কিন্তু আট মাস পার হলেও উনারা কোনো পদক্ষেপ নেন নাই। এটি প্রতারণা নম্বর তিন।
জুলাই সনদের ৬৪ নম্বর প্রস্তাব অনুযায়ী সচিবালয়ে যারা ‘ভোটচুরি’ ও ‘গণহত্যার’ সঙ্গে জড়িত তাদের বিচারের ব্যবস্থা না করাকে ৪ নম্বর ‘প্রতারণা’ হিসেবে দাবি করেন হাসনাত। পাঁচ নম্বর ‘প্রতারণা’ হিসেবে ২০২৬ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ঘোষিত তথ্য অধিকার আইন সংশোধনের অধ্যাদেশ বাতিলের কথা তুলে ধরেন তিনি।
হাসনাত বলেন, টিয়া পাখিকে শিখিয়ে দেওয়া কথার মত বিএনপির সবাই সংসদে বলছে অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে, অথচ খোঁজ নিয়ে দেখলে দেখা যাবে ছেলের ঠিকাদারি আর ভাইয়ের কাজ ছাড়া কিছুই পালন হচ্ছে না।’
জুলাই সনদের ৬১ নম্বর প্রস্তাবে বিচারকদের ‘রাজনৈতিক আনুগত্যকে’ অসদাচরণ হিসেবে গণ্য করার কথা থাকলেও বিএনপি তার কোনো ব্যবস্থা নেয়নি দাবি করে একে ৬ নম্বর ‘প্রতারণা’ হিসেবে বর্ণনা করেন এই এনসিপি নেতা।
সাত নম্বর ‘প্রতারণা’ হিসেবে হাসনাত বলেন, বিচারক ও কর্মচারীদের সম্পদের বিবরণী প্রকাশ করার কথা থাকলেও তার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।’
আট নম্বর ‘প্রতারণা’ হিসেবে এনসিপি নেতা বলেন, ৫২ নম্বর প্রস্তাবে নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে পৃথক করতে সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছিল, কিন্তু বিএনপি এসে সেটিও বিলুপ্ত করেছে।
হাসনাতের ভাষ্য, এভাবে বিএনপি জনগণের সাথে একের পর এক প্রতারণা করেছে। তারেক রহমানকে একটি ফিটনেসবিহীন গাড়িতে তুলে দেওয়া হয়েছে, উনি হয়তো আপাতত ফটোশুট বা পিআর স্টান্ট করে খুশি আছেন।
কিন্তু প্রধানমন্ত্রীকে যদি নিজে গিয়ে হাসপাতালের বাথরুম বা ফুটপাত পরিষ্কার তদারকি করতে হয়, তাহলে বুঝতে হবে মধ্যবর্তী প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙে পড়েছে। আওয়ামী লীগের সময় যেমন সবকিছুর জন্য প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হত; কারণ অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো অকার্যকর ছিল। এখনো একই পথে হাঁটা হচ্ছে। কিছু নির্দিষ্ট ব্যবসায়ী ও নতুন বিএনপি সেজে বসা ফায়দালোভীদের স্বার্থ রক্ষায় রাষ্ট্রকে ব্যবহার করা হচ্ছে।
বিএনপিকে সতর্ক করে হাসনাত বলেন, উনারা ভাবছেন এক পা ডাঙায় রেখে আর এক পা জলে রেখে পুকুরটা সাঁতরে পার হবেন। পুকুর সাঁতরে পার হবেন ঠিকই, কিন্তু পুকুরের ওপারে গিয়ে দেখবেন পরনে লুঙ্গিটা আর নেই।
সংবিধান সংশোধনের ‘বিপদ’ নিয়ে হাসনাতের ভাষ্য, এর আগেও সংবিধান সংশোধন হয়েছে এবং আদালতের নির্দেশে বাতিল হয়েছে। এ সময় সংবিধানের সপ্তম সংশোধনী, অষ্টম সংশোধনী, ত্রয়োদশ সংশোধনী, পঞ্চদশ ও ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের উদাহরণ তুলে ধরেন তিনি।
বিএনপির এমপিদের গণপরিষদের শপথ না নেওয়ারও সমালোচনা করেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। তার মতে, জুলাই সনদ এখন আর কার্যকরী নেই, এটি একটি অলঙ্কারমাত্র।
হামিম-১৮/ডিএসই-১০
