
ময়মনসিংহ : জেলা সদরের মাসকান্দায় আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস রোডে দোকানে ঢুকে রাব্বী হত্যা মামলার প্রধান আসামি আবদুল খালেক (২৭) নামের এক যুবককে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাতে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১৪।
গতকাল হত্যাকাণ্ডের পর সন্ধ্যায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বাড়িঘরে আগুন দেন বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
আজ বেলা ১১টার দিকে সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-১৪ ময়মনসিংহের কোম্পানি কমান্ডার মো. সামসুজ্জামান বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার আট ঘণ্টার মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত আবদুল খালেককে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আবদুল খালেক হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পূর্বশত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে রাব্বিকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে তিনি বড় একটি দা বা হাঁসুয়া ব্যবহার করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
র্যাব আরও জানায়, ২০১৮ সালে রাব্বির পক্ষের লোকজন খালেকের বাবা ফজলুল হককে মারধর করেছিলেন এবং তার একটি হাত বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছিল বলে খালেক দাবি করেছেন। ওই ঘটনার জেরে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ছিল। এছাড়া রাব্বির পক্ষের লোকজন এলাকায় ভবন নির্মাণসহ বিভিন্ন কাজে চাঁদা দাবি করতেন বলেও তিনি অভিযোগ করেছেন।
তবে খালেকের এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি র্যাব। অন্য কোনো পক্ষের বিরোধ বা সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলন শেষে ছবি তোলার সময় সাংবাদিকদের উদ্দেশে আবদুল খালেক বলতে থাকেন, ‘শিক্ষিত মানুষ আমি। আমার কি কথা আছিল এইনো আওয়ার? আপনাগর কাজ যদি আপনারা সঠিক করতাইন, তাইলে আমার এইন আগুন লাগত না, বুঝ্ছইন না। সন্ত্রাসী মারছি, আমার বাপেরে কোপাইছে ১৫ জন, আমিও কোপাইছি।’
নিজের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরে আবদুল খালেক বলেন, ‘আমার বাড়িঘর পুড়াইছে, লুটপাট করছে কে? কোনো আইনের লোক তো বাঁচাইতে পারল না। যেইডি নিরীহ, হেইডির ওপরেই জুলুম; সবলগোরে পাইতো না। আমি বাইরইতে পারলে তাদের কপালে শনি আছে, যারা আমার বাড়িঘর পুড়াইছে।’
নিহত রাব্বির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে খালেক আরও বলেন, ‘হে (রাব্বি) প্রত্যেক দোকান থাইকা ২০০ টাকা করে চাঁদা তুলত। যারা না দিত, হেরেই মাইরা বইতো। আমি কখনো চাঁদাবাজি করি নাই। আমার এলাকায় গিয়া জিজ্ঞেস করে দেখেন। মারছি আমরা দুই ভাইয়েই। আঙ্গর বেশি লোক লাগে নাকি, আঙ্গর কি কইলজা নাই? আমার বাপেরে ওরা ১৫ জনে মিইল্লা কোপাইছে আর আমরা দুই ভাইয়ে মিইল্লা ওরে কোপাইছি।’
ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গতকাল রাতে নিহত ব্যক্তির বাবা মোবারক হোসেন বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও তিন থেকে চারজনকে আসামি করা হয়েছে। র্যাব একজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
কানিজ-১৪/ডিএসই-৮
