Wednesday, July 29

মালয়েশিয়া শ্রমবাজার দুর্নীতি : তদন্তে দুদক

২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর নামে সরকার নির্ধারিত ফি’র কয়েকগুণ অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগে করা মামলার আসামি ও রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে দুদক।

দুদকের বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত-২ শাখার একটি পত্র থেকে জানা যায়, শ্রমবাজারে দুর্নীতির অভিযোগে এখন পর্যন্ত ১০০টি রিক্রুটিং এজেন্সির ২৩২ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুদক। এসব মামলার অভিযুক্তদের মধ্যে এ পর্যন্ত ২১৩ জনকে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশও জারি করেছে কমিশন।

মামলাগুলোতে ১০০টি রিক্রুটিং এজেন্সির আত্মসাৎ করা অর্থের পরিমাণ ৭ হাজার ৯৮৪ কোটি ১৫ লাখ ৭ হাজার ৫০০ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এ পর্যন্ত নোটিশপ্রাপ্ত ১৬৭ জন কমিশনে তাদের সম্পদ বিবরণী জমা দিয়েছেন তাদের মধ্যে ২৫ জনের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের সুপারিশ করা হয়েছে। বাকীগুলোর বিবরণী যাচাই-বাছাই চলছে।

মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত ফি’র অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং সেই অর্থ বিদেশে পাচারের অভিযোগে আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যান, কাউন্সিলর এবং তাদের মনোনিত রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের বিরুদ্ধে পৃথক ১২টি মামলা করেছে দুদক।

অভিযুক্তদের মধ্যে সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল (লোটাস কামাল), সাবেক সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী, সাবেক সংসদ সদস্য ও অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, সাবেক সংসদ সদস্য বেনজীর আহমদ, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুস সোবহান ভূঁইয়াসহ বিভিন্ন রিক্রুটিং এজেন্সির চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা রয়েছেন।

অভিযোগে বলা হয়, তারা পরস্পরের যোগসাজশে সরকার নির্ধারিত কর্মীপ্রতি ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকার পরিবর্তে ২ লাখ ৪৬ হাজার ৪৯০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে তা আত্মসাৎ করে বিদেশে পাচার করেছে।

কানিজ-ফৌজিয়া/২৬/ডিএসই