
রেজাউল করিম : সাংবাদিকদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে, বিশেষ করে অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের জন্য অস্ত্রের লাইসেন্স প্রদানের বিধি-বিধান সহজ করার পাশাপাশি বৈধ অস্ত্র ক্রয়ে দীর্ঘমেয়াদি ও কম সুদে ব্যাংক ঋণের সুযোগ দেওয়ার ব্যপারে নীতিগতভাবে সরকারের বিবেচনা করা উচিত।
সাংবাদিকরা অনুসন্ধান নিশ্চয়ই ভালো লোকদের ব্যপারে করে না – তারা যাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করে তাদের বেশির ভাগই দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও ক্ষমতার অপব্যবহারকারী। এধরনের চিহ্নিত অপরাধীরাও সামান্য কিছু নিয়ম মেনে ঘুষ ও তদ্বিরের জোরে সহজেই অস্ত্রের লাইসেন্স পায়৷
একারনে অনেক ক্ষেত্রেই সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে হুমকি, হামলা ও হয়রানির শিকার হতে হয়। কোনো কোনো সাংবাদিককে প্রাণও দিতে হয়।
জন-দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সরকারের কেউ এমনিতে মরলেও বিশেষ অনুদান ও পতাকায় ঢেকে তাকে সম্মান দেয়া হয়। খুন হলেতো পুরা রাষ্ট্র আসামি ধরতে অস্থির হয়ে পড়ে !
অথচ রাষ্ট্রের তৃতীয় পিলার হিসাবে শতভাগ জনস্বার্থে দায়িত্বপালনকারী সাংবাদিক মরলে সম্মানি ও সম্মানতো দূরের ব্যপার, বিচারও হয়-না !
সাগর-রুনীর নির্মম হত্যা সহ দৈনিক সংগ্রামের খুলনার ব্যুরো চীফ বেলাল হোসেন, দৈনিক পূর্বাঞ্চলের সিনিয়র রিপোর্টার হারুন অর রশিদ, জনকণ্ঠের বিশেষ প্রতিনিধি শামসুর রহমান, দৈনিক রানার সম্পাদক সাইফুল আলম মুকুল, সমকালের সাংবাদিক গৌতম সাহ, সাংবাদিক দীপংকর, এটিএন বাংলার ক্যামেরাম্যান মিঠু, এনটিভির ভিডিও এডিটর আতিকুর রহমান – কারো হত্যার বিচার হয় নাই।
যেহেতু রাষ্ট্র সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হত্যার ঘটনার কার্যকর বিচার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ, সেহেতু তাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয়টি অন্তত ভাবা উচিত।
কানিজ-০২/ডিএসই-৯
