
রেজাউল করিম : জবাবদিহিতা এড়ানো, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং মূলধনের ঘাটতি না থাকাই লাভজনক সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে আগ্রহী না হওয়ার অন্যতম কারন হিসাবে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক এবং ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ এর চেয়ারম্যান আবু আহমেদ এ প্রসংগে বলেন, লাভজনক সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবশ্যই পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করা উচিত। জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত হওয়ার আতংক মূলত তাদের তালিকাভুক্তিতে নিরুৎসাহের প্রধান কারণ মনে করেন অধ্যাপক আবু আহমেদ।
তিনি বলেন, ‘অতীতেও লাভজনক রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে শেয়ারবাজারে আনার পরিকল্পনা করা হলেও তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীকালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও বিষয়টি নিয়ে উদ্যোগ নেয়। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও লাভজনক সরকারি কোম্পানিগুলোকে শেয়ারবাজারে আনার বিষয়ে আগ্রহী।’
আবু আহমেদের মতে, রাষ্ট্রায়ত্ত লাভজনক প্রতিষ্ঠানগুলো শেয়ারবাজারে এলে বাজারের গভীরতা ও স্থিতিশীলতা বাড়বে, নতুন ও মানসম্মত শেয়ার যুক্ত হবে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত হবে।
২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে সরকারি ৩৪ কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির উদ্যোগ নেয়া হয়। তবে সেই উদ্যোগ বেশি দূর এগোয়নি। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০১০ সালে শেয়ার বাজারে ভয়াবহ সঙ্কট দেখা দেয়। তারপর সঙ্কট কাটাতে সরকারি কোম্পানিকে বাজারে আনার উদ্যোগ শুরু হয়। ২০১০ সালের ১৩ জানুয়ারি অর্থমন্ত্রী এক বৈঠকে সরকারি কোম্পানির ৫১ শতাংশ শেয়ার সরকারের হাতে রেখে বাকি শেয়ার পাবলিকের মধ্যে ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কোম্পানিগুলোকে ২০১০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেয়ার ছাড়তে সময়সীমাও বেঁধে দেয়া হয়। তারপর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ২০১১ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি আরেকটি বৈঠকে অর্থমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার কথা জানিয়ে কোম্পানিগুলোকে শেয়ার ছাড়ার তাগিদ দেয়। কিন্তু তখন সরকারি কোম্পানির সংখ্যা ৩৪ থেকে কমে দাঁড়ায় ২৬ এ।
সর্বশেষ ২০২৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২৪ টি কোম্পানির শেয়ার ছাড়ার সময়সীমা বাড়ানো হলেও মোট ৫টি কোম্পানি শেয়ার ছাড়তে পেরেছে। ওগুলো হলো যমুনা অয়েল কোম্পানি, মেঘনা পেট্রোলিয়াম, ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টস, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন ও রূপালী ব্যাংক। কিন্তু বাকি ১৯টি কোম্পানিই শেয়ার ছাড়তে ব্যর্থ হয়েছে।
কানিজ-২৪/ডিএসই-৮
