একদিকে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান, অন্যদিকে ১১ দলের লং মার্চ ! একদিকে প্রধানমন্ত্রীর সীমা ছাড়িয়ে গেলে ব্যবস্থার সতর্কতা, অন্যদিকে রাস্তার দুপাশে লং মার্চের সমর্থনে হাজার হাজার মানুষ!

রাজনীতি এখন কোনদিকে ?
রেজাউল করিম

এদেশের রাজনীতিতে দল ও ব্যক্তির অতীত গুরুত্বপূর্ণ। অতীতের জন্য জামাতকে বলা হয় রাজাকার, এরশাদকে স্বৈরাচার, আওয়ামী লীগের ভুমিকার জন্য বলা হয় ফ্যাসিস্ট – তাহলে বিএনপি ?
বিএনপির প্রতিষ্ঠা আগে হলেও গণপরিচিতি বা জনপ্রিয়তার শুরু মূলত এরশাদ বিরোধী আন্দোলন থেকে। বেগম জিয়ার তেজোদ্দীপ্ত বক্তৃতা ও ব্যক্তিগত দৃঢ়তায় অপোষহীন হিসাবে অল্প ভোটে ( ০.৭৩ শতাংশ) বিজয়ী হয়ে ১৯৯১ সালে জোট করে বিএনপি রাষ্ট্র গঠনের পর সেই সময়ের সংবাদপত্র এবং সমসাময়িক ঘটনা পর্যালোনায় দেখা যায় লুট, চাঁদাবাজি আর সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য বাংলাদেশ। মেয়াদ শেষে ৯৬ সালের ১৫ ফ্রেব্রুয়ারী বিতর্কিত নির্বাচন দিয়ে ক্ষমতালোভি একটি রাজনৈতিক দল হিসাবে জনগণের কাছে পরিচিতি নিয়ে তাদের ২২ দিনে ক্ষমতা ছাড়তে হয়। নানারকম অত্যাচারে অতিষ্ঠ জনগণ “মাথায় হজ্বের কালো কাপড় মোড়ানো চেহারা আর আমার মা নাই বাবা নাই – একবার সুযোগ দেন” বলে হাসিনার কান্নায় আওয়ামী লীগকে সুযোগ দিলে তারা বিএনপির দ্বিগুণ লুটপাট ,দুর্নীতি,খুন আর ধর্ষন উৎসবে মেতে উঠে। পরের নির্বাচনে আবার বেগম জিয়ার কথায় জনগণ বিএনপিকে ক্ষমতা দিলো – কিন্তু কি হলো ? একই ভাবে লুটপাট চাঁদাবাজি দুর্নীতি !
এই সুযোগে ১/১১ এসে বিএনপিকে সরিয়ে দিয়ে আওয়ামী লীগকে বসালো। এবার আওয়ামী লীগ জনগণের ভোটকে আর পাত্তা দিলো না ! নিজেদের মতো করে একের পর নির্বাচনে ভোট চুরি করে লুট- পাচার- দুর্নীতি- গুম- খুন- ধর্ষনের ইতিহাস গড়লো ! বিএনপি রাস্তায় দাঁড়াতেই পারলো না ! তাদের দলের চিহ্নিতরা গোপনে আওয়ামী লীগের পেইড দালাল হয়ে নিজেদের লুটে গড়া সম্পদ নিরাপদ রাখলো, বেগম জিয়াকে তাদের সামনে দিয়ে জেলে নিলো – তারা মাইরের ভয়ে সবাই লুকিয়ে গেলো আর চিহ্নিতরা কেউ কেউ পুলিশকে টাকা দিয়ে এ্যারেস্ট হয়ে জেলে ঢুকলো !
জামায়েতের নেতাদের রাজাকার বলে ফাসীঁ দিয়ে দিলো। তাদের যারা বাইরে ওদের জংগী উপাধী দিয়ে খুঁজে খুঁজে প্রকাশ্যে গুলি করে মারতে শুরু করলো। প্রতিবাদী সাংবাদিকদের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করে ধরে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে জেলে ঢুকিয়ে রাখলো।
এই কঠিন সময়ে নাহিদ -হাসনাত- সারজিস- আসিফদের নেতৃত্বে তৈরে হওয়া বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে দেশের সকল স্কুল -কলেজ- বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা ঐক্যবদ্ধ হলো। হাসিনা ওদের গুলি করে মেরে থামাতে চেষ্টা করলে দেশজুড়ে অভিভাবকরাও রাস্তায় নেমে এলো – আর তখন বাধ্য হয়ে খুনী হাসিনা দেশটাকে তছনছ করে দলবল সহ পালালো৷
২০২৪ সালের ৬ আগস্ট খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়া হলো। ৮ আগস্ট ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার শপথ নিল।
১০ আগষ্ট বিএনপি ও জামাতের জেলে থাকা নেতাদেরকে জেল থেকে বের করা হলো। ১১ তারিখ থেকে তারা একযোগে সারা দেশে “১৭ বছর খাই নাই” বলে চাঁদাবাজি -দখল- লুটপাটে ঝাপিয়ে পড়লো আর জামায়াত সে পথে না গিয়ে প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিয়ন্ত্রণে নেয়ায় মনযোগী হলো৷
সেসময় আওয়ামী লীগের ধংস করে যাওয়া দেশের রাস্তায় তখন ছাত্র-ছাত্রীরা ট্রাফিক সামলায়, সেনাবাহিনী বিশৃঙ্খলা সামলায় আর বিএনপি লুটপাট করে আর রাস্তা আটকে মিছিল করে ! তারা নগর ভবনে তালা মারলো, প্রতিদিন আন্দোলন করে রাস্তাঘাট সহ জনজীবন প্রায় দুর্বিসহ করে তুললো !
জনগণ তখন চরম বিরক্ত। যখন নির্বাচনের ঘোষণা এলো দেশি-বিদেশি সকল জরিপে সারাদেশে ৩০০ আসনে বিএনপি’র ৩০ লাখ ভোট পাওয়ার সম্ভাবনাও কমে গেলো।
তারেক রহমান দেশে এলেন – তার কথায় জনগণের একাংশ আবার বিশ্বাস করলো। আলোচনা করলো – ভাবলো, দেখি জামাতের চেয়ে হয়তো জিয়া আর বেগম জিয়ার ছেলের নেতৃত্বে বিএনপি আগের চেয়ে ভালো হতে পারে। শুধুমাত্র তারেক রহমানের কারনে মাত্র ১৮.২১% ভোটের পার্থক্যে বিএনপি মেজরিটি আসন পেলো।
তবে অবাক করার মত বা ভাববার মত বিষয় হলো, বিএনপির সরকারের এখন মাত্র ৬ মাস। এরই মধ্যে সংবাদপত্র ও জনমুখে শতশত কোটি টাকা ভাগাভাগির অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ছে!
অন্যদিকে বিরোধী দলীয় জোটের লংমার্চে রাস্তার দুপাশে এবং তাদের সমাবেশে লাখ লাখ মানুষ !
এতো লোক কেন !
এই প্রশ্নে একজন পথচারী বললো – জনগণ হয়তো বুঝতে পারছে, তাদের সিদ্ধান্তে ভুল হয়েছে !
হামিম-০৫/ডিএসই-৯
