Tuesday, September 15

জার্মানির স্যাক্সনি-আনহাল্টে উগ্র ডানপন্থীদের বড় জয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : উগ্র ডানপন্থী অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি – এএফডি জার্মানির পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য স্যাক্সনি-আনহাল্টের নির্বাচনে বড় ব্যবধানে এগিয়ে গেছে। প্রাথমিক ফল অনুযায়ী দলটি প্রায় ৪৪ শতাংশ ভোট পেতে যাচ্ছে – যা দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা রক্ষণশীল সিডিইউ’র প্রায় ১৭ শতাংশের দ্বিগুণেরও বেশি।

এএফডি’র রাজ্যপ্রধান প্রার্থী উলরিশ সিগমুন্ড ফলাফলকে ‘অসাধারণ’ বলে অভিহিত করে বলেছেন, তারা যত দ্রুত সম্ভব সরকার পরিচালনা শুরু করতে চান। তবে এএফডি এখনো একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। ৮৩ আসনের রাজ্য পার্লামেন্টে দলটি বর্তমানে ৩৯টি আসন পেতে যাচ্ছে; সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ৪২টি। ফলে অন্য কোনো দলের সমর্থন ছাড়া সরকার গঠন করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানির কোনো রাজ্যে এখনো কোনো উগ্র ডানপন্থী দল সরকার গঠন করতে পারেনি। এএফডি’র রাজ্য শাখাকে দেশটির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা ‘ডানপন্থী উগ্রবাদী’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে। যদিও সিগমুন্ড এই মূল্যায়ন প্রত্যাখ্যান করেছেন।

এএফডি’র জাতীয় সহ-নেতা অ্যালিস ভাইডেল ও টিনো ক্রুপালা ফলাফলে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। দলটির ২০২১ সালের ফলাফলের তুলনায় এবারের ভোট তাদের সমর্থন দ্বিগুণেরও বেশি বাড়িয়েছে।

সিগমুন্ড সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, “এটি শুধু স্যাক্সনি-আনহাল্টের বিষয় নয়। এটি পুরো জার্মানির জন্য একটি সংকেত—একটি আত্মবিশ্বাসী সংকেত।”

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ট্রুথ সোস্যাল অ্যাকাউন্টে জার্মান টেলিভিশনের নির্বাচনী পূর্বাভাসের একটি স্ক্রিনশট পোস্ট করেন। পরে রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ ট্রাম্পের পোস্টের স্ক্রিনশট তুলে ধরে এএফডি’র ফলাফলকে “ঐতিহাসিক জয়” হিসেবে প্রশংসা করেন।

এর বিপরীতে পোল্যান্ডের মধ্য-ডানপন্থী প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক বলেন, “পোল্যান্ডে শুধু বোকা ও বিশ্বাসঘাতকরাই এএফডি’র বিজয়ে আনন্দিত হতে পারে।”

কেন এই ফল গুরুত্বপূর্ণ?

জার্মানির মূলধারার দলগুলো এএফডি’র সঙ্গে জোট গঠন প্রত্যাখ্যান করে আসছে। এই নীতিকে জার্মানিতে ‘Brandmauer’ বা রাজনৈতিক ফায়ারওয়াল বলা হয়—যার উদ্দেশ্য উগ্র ডানপন্থীদের সরকার থেকে দূরে রাখা।

তবে এএফডি’র জনপ্রিয়তা বিশেষ করে পূর্ব জার্মানির রাজ্যগুলোতে দ্রুত বাড়ছে। দলটি অভিবাসনবিরোধী অবস্থানের জন্য পরিচিত এবং তাদের অন্যতম বিতর্কিত নীতি হলো ‘remigration’, যা ব্যাপকভাবে অভিবাসীদের বহিষ্কারের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে বিবেচিত হয়। এএফডি অবশ্য দাবি করে, এর অর্থ মূলত অপরাধী ও অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের বহিষ্কার।

স্যাক্সনি-আনহাল্টে ভোটার উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্য—৭৬.৭ শতাংশ।

এএফডি সমর্থকদের একজন বলেন, সিগমুন্ড এমন কিছু দিচ্ছেন যা অন্য কোনো দল দিতে পারেনি। আরেক ভোটার বলেন, পূর্বাঞ্চলের মানুষ বুঝতে পারছেন পরিস্থিতি ভালো যাচ্ছে না এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে তার ভয় হচ্ছে।

মিউনিখ ও বাভারিয়ার ইহুদি সম্প্রদায়ের প্রবীণ নেত্রী এবং হলোকাস্ট থেকে বেঁচে যাওয়া শার্লট নোব্লখ ফলাফলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এমন দিনে তার নিজের দেশকেই আর পরিচিত মনে হয় না। তিনি মূলধারার দলগুলোকে এই রাজনৈতিক অবক্ষয়ের সামনে নীরব না থাকার আহ্বান জানান।

এদিকে এএফডি’র স্যাক্সনি-আনহাল্টের অন্যতম শীর্ষ নেতা হান্স-থমাস টিলশ্নাইডার রাশিয়াপন্থী অবস্থানের জন্য সমালোচিত হয়েছেন। তার অফিসে রুশ সেনাবাহিনীর প্রতীকযুক্ত একটি মগ কেন ছিল—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সেটি কেবল একটি স্মারক এবং “এটি আমাদের যুদ্ধ নয়।”

নওরিন-০৭/ডিএসই-৯