Monday, November 2

কলম ও কিবোর্ডে লেখা : স্নায়বিক গবেষণা

স্নায়ুবিজ্ঞানী অড্রে ভ্যান ডার মির

বিশেষ প্রতিনিধি : নরওয়ের স্নায়ুবিজ্ঞানী অড্রে ভ্যান ডার মির কিছু শিক্ষার্থীদের মাথায় উচ্চ-ঘনত্বের EEG ক্যাপ পরিয়ে দুটি কাজ করতে বলেছিলেন। প্রথমে কলম দিয়ে হাতে লিখতে, তারপর কিবোর্ডে টাইপ করতে। ফলাফল ছিল তাৎক্ষণিক এবং উল্লেখযোগ্য।

হাতে লেখার সময় মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশে একই সঙ্গে সমন্বিতভাবে স্নায়বিক কার্যকলাপ বেড়ে যায়। স্মৃতিশক্তি, ইন্দ্রিয়গত তথ্যের সমন্বয় এবং শেখার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মস্তিষ্কের কেন্দ্রগুলো একযোগে সক্রিয় হয়ে ওঠে। মস্তিষ্ক তখন পূর্ণমাত্রায় কাজ করে। অন্যদিকে, টাইপ করার সময় মস্তিষ্কে প্রায় কোনো উল্লেখযোগ্য কার্যকলাপই দেখা যায়নি।

কারণ, টাইপ করার ক্ষেত্রে বারবার একই ধরনের কী চাপতে হয়। এতে স্থানিক সমস্যা সমাধানের মতো দক্ষতার তেমন প্রয়োজন হয় না। শিক্ষার্থীরা যখন একই শব্দ হুবহু টাইপ করেছিল, তখন মস্তিষ্কের জটিল জ্ঞানীয় নেটওয়ার্কের সক্রিয়তা কমে গিয়েছিল।
টাইপ করার সময় মস্তিষ্ক কার্যত কম শক্তি ব্যয় করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করতে পারে। এ কারণেই আমরা হাতে লিখে রাখা বিষয় সহজে মনে রাখতে পারি, কিন্তু টাইপ করা বিষয় দ্রুত ভুলে যাই।

ল্যাপটপে নোট নেওয়া অনেক সময় আপনাকে কেবল একজন মানব ট্রান্সক্রিপশন যন্ত্রে পরিণত করে। অন্যদিকে, কলম দিয়ে লিখতে গেলে আপনাকে মনোযোগ দিয়ে শুনতে হয়, তথ্যের সারমর্ম বুঝতে হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে সংক্ষিপ্ত আকারে লিখতে হয়।
ডিজিটাল কিবোর্ডে টাইপ করা নিঃসন্দেহে দ্রুত ও ঝামেলাহীন। কিন্তু তথ্য লিপিবদ্ধ করার সবচেয়ে দ্রুত পদ্ধতিটিই যে তথ্য দীর্ঘ সময় মনে রাখার জন্য সবচেয়ে খারাপ পদ্ধতি হতে পারে, এই গবেষণা সেই বিষয়টি সামনে এনেছে।

রেজা-২৫/ডিএসই-১০