Wednesday, September 16

সোনালী ব্যাংক : বাড়তি বোনাস ১১৬ কোটি টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ

ঢাকা : ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর সোনালী ব্যাংকের ওপর বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি পরিদর্শন প্রতিবেদনে দেখা যায়, উৎসাহ বোনাস বিষয়ে সোনালী ব্যাংকের যে নিজস্ব নীতিমালা আছে, সে অনুযায়ী তিনটির বেশি বোনাস হয় না। তারপরও ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অনুষ্ঠিত ব্যাংকের ৮৭০তম পর্ষদ বৈঠকে পাঁচটি বোনাস দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।

তবে এই অনুমোদন করা হয় শর্তসাপেক্ষে। বলা হয়, ভবিষ্যতে কোনো ধরনের নিরীক্ষা বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে আপত্তি উঠলে বাড়তি টাকা ফেরত দিতে সবাই বাধ্য থাকবেন এবং ব্যক্তিগত অঙ্গীকারনামা দেবেন।

আর এভাবেই অঙ্গিকারনামা দিয়ে সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তা–কর্মচারীরা বাড়তি বোনাস নিয়ে গেছে ১১৬ কোটি টাকা।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সোনালী ব্যাংকের এমডিকে চিঠি দিয়ে নীতিমালাবহির্ভূতভাবে দেওয়া বাড়তি দুই বোনাসের অর্থ ফেরত নিয়ে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়। কিন্তু দেড় বছরেও সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তা–কর্মচারীরা বাড়তি বোনাস নেয়া ১১৬ কোটি টাকা ফেরত নিয়ে জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করেনি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, ২০২৩ সালের নীতিমালা ও ২০২৫ সালের নীতিমালা—কোনোটিতেই সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাঁচটি বোনাস নেওয়ার সুযোগ ছিল না। অথচ ২০২৩ সালের পারফরম্যান্সের জন্য ব্যাংকটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পাঁচটি উৎসাহ বোনাস নিয়েছে।

বোনাস দেওয়ার পর সোনালী ব্যাংক তা অনুমোদনের জন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে আবেদন করে, নীতিমালা লঙ্ঘনের জন্য ক্ষমাও চায়। তবে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ নিজেদের করা নীতিমালা লঙ্ঘন করে পাঁচটি বোনাস অনুমোদনের পথে যায়নি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দুই দিন পর ৭ আগস্ট সোনালী ব্যাংকের তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে ব্যাংকটির একশ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারী দাবী করে বছরে তাদের পাঁচটি উৎসাহ বোনাস দিতে হবে।

নতুন করে গত ১১ সেপ্টেম্বর সোনালী ব্যাংকের এমডিকে চিঠি দিয়েছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। এতে ২০২৩ সালের পারফরম্যান্সের জন্য পাঁচটি উৎসাহ বোনাস দেওয়ার বিষয়ে অসম্মতি জানানো হয়েছে। একই চিঠিতে নীতিমালাবহির্ভূতভাবে দেওয়া বাড়তি দুই বোনাসের অর্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে আদায় করে সমন্বয় করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সোনালী ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংকটিতে বোনাস নেওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় ২১ হাজার ৫০০। নিয়মিত তিনটির পাশাপাশি তাঁরা বাড়তি দুটি উৎসাহ বোনাসও নিয়েছেন। প্রতিটি বোনাসের অর্থ মূলত এক মাসের মূল বেতনের সমান।

সোনালী ব্যাংকের এমডি ও সিইও শওকত আলী খান বলেছেন, ‘৫ বোনাসের সিদ্ধান্তটি আমি এ ব্যাংকে যোগ দেওয়ার আগেই নেওয়া হয়েছে। যেকোনো ভাবেই হোক, টাকা যেহেতু পরিশোধ করা হয়ে গেছে, সেহেতু আমরা সরকারকে তা মেনে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছি। নতুন করে আবার একই অনুরোধ জানাব।’

এখন বোনাস নির্ধারিত হবে পাঁচ সূচকে
শুধু সোনালী ব্যাংক নয়, রাষ্ট্রমালিকানাধীনসহ সরকারি অন্য ব্যাংকগুলোতেও ঢালাওভাবে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উৎসাহ বোনাস দেওয়ার প্রবণতা বন্ধ করতে ২০২৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ নতুন একটি নির্দেশিকা জারি করে।

নতুন নির্দেশনায় মোট নম্বরের ভিত্তিতে বোনাসের সংখ্যা নির্ধারিত হবে। যাঁরা বেশি নম্বর পাবেন, তাঁরা সর্বোচ্চ তিনটি উৎসাহ বোনাস পাবেন। নম্বর কম হলে বোনাসের সংখ্যাও কমবে। আর নম্বর খুব কম হলে কোনো বোনাসই দেওয়া হবে না। বোনাস দেওয়ার বিষয়টি আর কর্তৃপক্ষের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করছে না। ব্যাংকের আর্থিক ফলাফল ও ঋণ আদায়ের সক্ষমতার সঙ্গে বোনাসের পরিমাণ সম্পর্কিত।

হামিম-১৬/ডিএসই-৯