Wednesday, July 29

সালোয়ার খোলার চেষ্টা ও স্তন মর্দন শ্লীলতাহানির অপরাধ হলেও ধর্ষণচেষ্টা নয়

পাটনা : ধর্ষণচেষ্টার অপরাধ প্রমাণের ক্ষেত্রে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ও বিভিন্ন আদালতের আগের কিছু রায় নিয়ে যখন আলোচনা চলছে, তখনই নতুন এক পর্যবেক্ষণ দিলেন পাটনা হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোনো নারীর সালোয়ার খুলে ফেলা বা স্তন মর্দন করার ঘটনা এককভাবে দণ্ডবিধির অধীনে ধর্ষণচেষ্টা হিসেবে গণ্য করার জন্য যথেষ্ট নয়।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০০৮ সালের ১৯ জানুয়ারি এক তরুণী তার বাবার সঙ্গে বিহারের আমারপুরের ‘ছায়া স্টুডিও’তে ছবি তুলতে গিয়েছিলেন। ছবি তোলার পর স্টুডিওর মালিক কম্পিউটারে ছবি দেখানোর অজুহাতে তরুণীর বাবাকে বাইরে অপেক্ষা করতে বলেন। এরপর অভিযুক্ত ব্যক্তি স্টুডিওর দরজা লক করে দেন। অভিযোগ ওঠে, তিনি তরুণীর সালোয়ার খোলার চেষ্টা করেন এবং ধর্ষণের উদ্দেশ্যে তার স্তন মর্দন করেন। তরুণী চিৎকার শুরু করলে তার বাবা দরজার দিকে ছুটে যান। তখন অভিযুক্ত ব্যক্তি দরজা খুলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

নিম্ন আদালত এ ঘটনায় আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করলে সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে পাটনা হাইকোর্টে আপিল করা হয়।

হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ ও খালাস

মামলার তথ্যপ্রমাণ আবার যাচাই করে হাইকোর্ট জানান, রাষ্ট্রপক্ষ ভুক্তভোগী ও তার পিতা-মাতাসহ পাঁচজন সাক্ষী হাজির করেছিল। তবে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে আদালতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি। এমনকি রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগের সপক্ষে কোনো চিকিৎসকের মতামত বা মেডিকেল রিপোর্টও জমা দেওয়া হয়নি।

হাইকোর্ট রায়ে বলেন, জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্কের ন্যূনতম কোনো চেষ্টা বা অকাট্য প্রমাণ এই মামলায় নেই। মেডিকেল রিপোর্টের অনুপস্থিতিতে একে কোনোভাবেই ধর্ষণচেষ্টা বলা যায় না।

তবে আদালত উল্লেখ করেন, দরজা বন্ধ করে তরুণীকে আটকে রাখা এবং সালোয়ার খোলার চেষ্টা ও স্তন মর্দন শ্লীলতাহানির শামিল। এটি দণ্ডবিধির ৩৫৪ ধারার অধীনে নারীর শ্লীলতাহানির অপরাধ হলেও তা ধর্ষণচেষ্টা নয়।

ভারতীয় হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, জোরপূর্বক শরীরের ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা বা সুনির্দিষ্ট কোনো চরম পদক্ষেপের প্রমাণ না থাকলে সেটিকে ধর্ষণচেষ্টা বলা যাবে না।

এর আগে, ২০১৫ সালের ১৭ মার্চ ভারতের এলাহাবাদ হাইকোর্টও অনূরূপ একটি রায় দিয়েছিলেন। ১১ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা মামলায় দুই আসামিকে খালাস দিয়ে আদালত বলেছিলেন, ভুক্তভোগীর পায়জামার ফিতা খোলা বা টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া অপরাধের ‘প্রস্তুতি’ মাত্র, এটি ‘ধর্ষণচেষ্টা’ নয়।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

ডেস্ক রিপোর্ট-১৬/ডিএসই-৭