
রাষ্ট্রদূত প্রিন্সেস রীমা বিনতে বান্দার আল সৌদ
সৌদি-মার্কিন সম্পর্ক এবং ইউক্রেন যুদ্ধে অবস্থান নিয়ে মঙ্গলবার মুখ খুলেছেন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত প্রিন্সেস রীমা বিনতে বান্দার আল সৌদ।
২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রে সৌদি রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর এই প্রথম আন্তর্জাতিক কোনও সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছেন প্রিন্সেস রীমা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর বেকি অ্যান্ডারসনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি ওপেকপ্লাসের তেলের উৎপাদন কমানো, ওয়াশিংটনের সঙ্গে রিয়াদের সম্পর্ক এবং ইউক্রেন যুদ্ধে সৌদি আরবের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।
প্রিন্সেস রীমা বলেছেন, ওপেকপ্লাসের তেলের উৎপাদন কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে রিয়াদের সম্পর্ক ‘ভিন্নমতের পর্যায়ে’ পৌঁছে গেলেও দীর্ঘদিনের দুই মিত্র দেশের সম্পর্ক শুধু অস্ত্র বিক্রি ও তেলের বিনিময়ের চেয়ে বেশি কিছু।
সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন ওপেকপ্লাস এই মাসের শুরুতে তেলের উৎপাদন প্রতিদিন ২ বিলিয়ন ব্যারেল কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধ উপেক্ষা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তেলের উৎপাদন কমানোর সিদ্ধান্তটি রাশিয়ার স্বার্থে যায় এবং বিশেষভাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের জন্য রাজনৈতিকভাবে বিব্রতকর।
সাক্ষাৎকারে তেলের উৎপাদন কমানোর সিদ্ধান্তটি সৌদি আরবের একার নয়, ২০টি দেশ সম্মিলিতভাবে নিয়েছে এবং এটি রাজনৈতিক নয়, অর্থনৈতিক পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেছেন প্রিন্সেস রীমা।
তিনি বলেছেন, রাশিয়ার সঙ্গে সৌদি আরবের যে সম্পর্ক রয়েছে সেটির ফলে যুদ্ধ বন্দিদের মুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দুজন, ব্রিটেনের পাঁচজন, ক্রোয়েশিয়ার একজন এবং অন্য দেশের নির্বাচিত যুদ্ধ বন্দিদের মুক্ত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা ইউক্রেনকে মানবিক সহযোগিতা করেছি। ৪০০ মিলিয়ন ডলার দিয়েছি। ইউক্রেন ও পোল্যান্ডে কাজ করছি শরণার্থীদের সহযোগিতায়। এটিই আমাদের যুক্ত থাকার গুরুত্ব।
সৌদি রাষ্ট্রদূত প্রশ্ন রেখে বলেন, এটি কি রাশিয়ার পক্ষ নেওয়া? আমরা জাতিসংঘে ইউক্রেনীয় ভূখণ্ড রাশিয়ার অংশ করার ইস্যুতে রেজুলেশনে আমরা দুবার মস্কোর বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছি।
