
‘মিট দ্য ওকাব’ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান
শনিবার ঢাকার আগারগাঁওয়ে বিদেশি সংবাদ মাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন ওভারসিজ করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ আয়োজিত ‘মিট দ্য ওকাব’ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেছেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে বিশ্ববাজারে দাম না কমলে গ্যাস নিয়ে ‘বড়’ সঙ্কট দেখা দিবে৷
তিনি বলেছেন, “সবাই জ্বালানি তেলের কথা বললেও আসলে সবচেয়ে বড় সমস্যা গ্যাস।…এইচএফও (বিদ্যুৎ উৎপাদনের জ্বালানি) এবং ডিজেলের দাম অনেক বাড়ছে, কিন্তু তবুও ওইটার সোর্স আছে। এদিক-ওদিক দিয়ে আমরা পাচ্ছি, ইম্পোর্ট হচ্ছে। কিন্তু গ্যাস ইজ আওয়ার বিগেস্ট প্রব্লেম।”
সালমান রহমান বলেন, “আমাদের প্রায় ৭০-৮০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কারখানা থেকে। এলএনজির স্পট প্রাইস এত বেশি বেড়ে গেছে যে এই প্রাইসে কিনে কিন্তু আমাদের পোষাইতেছে না।
তিনি বলেন, “ভোলাতে আমরা গ্যাসের সবচেয়ে বড় রিজার্ভ পেয়েছি। কিন্তু এই গ্যাস ফিল্ডের সমস্যা হচ্ছে কানেক্টিভিটি নেই। এখন আমরা সেই গ্যাসটা মেইন ল্যান্ডে কীভাবে আনতে পারি, সেটা নিয়ে ফিজিবিলিটি স্টাডি করা হচ্ছে।”
রাশিয়া-ইউক্রেইন যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিভিন্ন দেশ থেকে তুলনামূলক কম দামে গ্যাস আমদানিতে সরকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে জানিয়ে সালমান রহমান বলেন, “এখন আমরা চেষ্টা করতেছি, কাতারের সঙ্গে আমাদের যে চুক্তি আছে, সেটা যদি আমরা স্পট প্রাইসের চেয়ে কিছু কম দামে লংটার্মে চুক্তি করতে পারি, সেটা আমরা চেষ্টা করতেছি। ইন্ডিয়া থেকেও যদি আনতে পারি…।”
ডলারের ওপর চাপ কমানোর উপায় খোঁজা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের রিজার্ভে যে কারেন্সি আছে, সেটা আমি ব্যবহার করব এই রকম একটা কৌশল নেওয়া হচ্ছে। বিকল্প মুদ্রা হিসেবে আমাদের চিন্তা করতে হচ্ছে, কারণ আমাদের ৯৫ শতাংশ বাণিজ্যই আমাদের মার্কিন ডলারভিত্তিক।
“এছাড়াও আমাদের ইউরো, আরএনবি বা ইন্ডিয়ান রুপি স্টক থাকে। সেই স্টক ব্যবহার করার জন্যই আমরা বিকল্প মুদ্রার চিন্তা করছি।”
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ভবনের সম্মেলন কক্ষে এ অনুষ্ঠান উপস্থাপন করেন বিবিসির সংবাদদাতা কাদির কল্লোল। এতে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডিপিএ’র প্রতিনিধি ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি নজরুল ইসলাম মিঠু, বার্তা সংস্থা এপির ব্যুরো চিফ জুলহাস আলম, এএফপির ব্যুরো চিফ শফিকুল আলম ও রয়টার্সের সাবেক ব্যুরো চিফ সিরাজুল ইসলাম কাদির।
রিপন-সরদার/১১/ডিএসই
