Wednesday, July 29

কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছাড়া কেউ কি আওয়ামী লীগের নেতা না ?

মোমেন তো দলের কেন্দ্রীয় কমিটির কেউ না !

সম্প্রতি বিভিন্ন বিব্রতকর মন্তব্য করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেনকে নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাদের মধ্যেই ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এ নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের সভাপতিমণ্ডলীর এক সদস্য বলেছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন আওয়ামী লীগের কেউ নন।

আওয়ামী লীগের আরেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং সরকারের এক মন্ত্রী বলেছেন, দলের বিষয় নিয়ে কথা বলার তিনি কেউ নন। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রহমান বলেছেন, ‘তিনি (পররাষ্ট্রমন্ত্রী) তো আমা‌দের দ‌লের কেউ না।

কিন্তু জানা গেছে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের এক নাম্বার সদস্য ও জেলা কমিটির উপদেষ্টা।

প্রশ্ন উঠেছে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছাড়া কেউ কি আওয়ামী লীগের নেতা না ?

আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রীদের মধ্যে সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি শিক্ষামন্ত্রী, ড. হাছান মাহমুদ তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী। বাকী মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রীদের আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে জায়গা নাই।

দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছাড়া অন্য কোনো কমিটিতে থাকলে তিনি যদি আওয়ামী লীগের কেউ না হন, তাহলে জেলা, থানা, উপজেলা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও ইউনিটের কমিটি করা হয় কেন এবং তৃণমূল নেতাদের আওয়ামী লীগের মূল শক্তি বলার কারণ কী ?!

আব্দুল মোমেন জেলা কমিটির নেতা হওয়ায় যদি আওয়ামী লীগের কেউ না বলা হয় সেক্ষেত্রে তো জেলা থেকে শুরু করে থানা, উপজেলা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও ইউনিট কমিটির সবাইকে অস্বীকার করা হয়।

গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এবং সাধারণ সম্পাদক গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন সবুজ। ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজী। নওগাঁ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। তারাও কি আওয়ামী লীগের কেউ না?

এসব প্রশ্ন এখন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মুখে-মুখে।

বিশেষ-প্রতিনিধি/১৪/ডিএসই

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *