Wednesday, July 29

৫১ বছরেও স্বীকৃতি পায়নি শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল সরদার – অর্ধাহারে অনাহারে বেঁচে আছে তার পরিবার

সাজিউদ্দিন কামাল

মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল সরদারের বয়োবৃদ্ধা স্ত্রী জোহুরা বেগম

স্বাধীনতার ৫১ বছরেও স্বীকৃতি পায়নি ভারত থেকে ট্রেনিং নিয়ে দেশে ফেরার পথে পাক বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে নিহত শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল সরদার। সেই বেদনা বয়ে বেড়াচ্ছেন তাঁর বিধবা বয়োবৃদ্ধা স্ত্রী জোহুরা বেগম।

জোহুরা বেগমের করুণ আর্তি, জীবনের পড়ন্ত বেলায় স্বামীর মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দেখে যেতে চাই।

প্রতিবেদকের সাথে কান্নাজড়িত কন্ঠে জোহুরা বেগম বলছিলেন, ১৯৭১ সাল। চারিদিকে যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। সেদিন বসে থাকতে পারেননি সাতক্ষীরার তালা উপজেলার খলিল নগর ইউনিয়নের মহন্দীর নিভৃত পল্লীর মৃত কাতার আলী সরদার ও গুলজান বিবির ছেলে দেশপ্রেমিক আব্দুল সরদার। স্বাধীনতাকামী মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে ট্রেনিং নিতে চলে যান ভারতে। সেখান থেকে ট্রেনিং নিয়ে দেশে ফেরার পথে সাতক্ষীরার বিনেরপোতা এলাকায় পৌছালে পাকিস্তানী সেনারা অন্যদের সাথে ধরে নির্মম ভাবে নির্যাতনের পর যশোর ক্যন্টনমেন্টে নিয়ে যায় আব্দুল সরদারকে। সেখান জিজ্ঞাসাবাদ ও আবার নির্যাতন শেষে অন্যদের সাথে তাকেও খুলনার গল্লামারীতে নিয়ে হত্যা করা হয়।

এদিকে স্বামীর মুক্তিযোদ্ধা এমন খবরে স্বাধীনতা বিরোধীরা তাদের বাড়িতে হামলা করে। আগুন দিয়ে তাদের বসত-বাড়ি পুড়িয়ে দেয়। এক পর্যায়ে বাধ্য হয়ে জোহুরা তার ২ ছেলে ও ৪ মেয়েকে নিয়ে ভারতে গিয়ে আশ্রয় নেন শরনার্থী শিবিরে। সেখানেই জানতে পারেন তার স্বামী আব্দুল সরদার পাকিস্তানীদের হাতে ধরা পড়েছে।

খবর পেয়ে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে সাতক্ষীরা হয়ে আসার সময় পাকবাহিনী তাদের পথ আটকে তার সেঝ মেয়ে সুফিয়াকে ধরে নিয়ে যায়। ছেলে বাধা দিলে তাকে হাতে ও কোমরে গুলি করে। সুফিয়াকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাকেও সম্ভবত অমানবিক নির্যাতনের পর মেরে ফেলা হয়েছে।

জহুরা বেগম অভিযোগ করে বলছিলেন, দেশ স্বাধীনের গত ৫১ বছরেও তাদের খোঁজ রাখেনি কোন সরকার। খবর নেয়নি মুক্তিযোদ্ধা সংগঠনের কেউ।

জোহুরার ২ ছেলে আজগর ও রহমতের জীবিকা নির্বাহ হয় ভ্যান চালিয়ে। আর মেয়েদের বিয়ে হয়ে গেছে। এখন জীবন চলছে অর্ধাহারে অনাহারে।

সহ-সম্পাদক/১৩/ডিএসই