Thursday, September 3

রাষ্ট্রপতির চুড়ান্ত মনোনয়ন : মির্জা ফখরুলের ধৈর্য ও সংগ্রামের ইতিহাস

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

ঢাকা : বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভা শেষে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির পক্ষ থেকে প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন দলটির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন পাওয়ায় দলের মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মির্জা ফখরুল।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তফসিল অনুযায়ী, দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেল ৪টা।সেকারনে আজই নির্বাচন কমিশনে রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হবে।

১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র বাছাই করা হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৮ আগস্ট। ভোটগ্রহণ হবে ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে।

জাতীয় সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় মির্জা ফখরুলই দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন, এটা প্রায় নিশ্চিত।

১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ে জন্ম নেওয়া মির্জা ফখরুল অর্থনীতি নিয়ে পড়াশোনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ছাত্রজীবনেই যুক্ত হন রাজনীতির সঙ্গে। ষাটের দশকে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে শুরু হয় তার রাজনৈতিক পথচলা।

শিক্ষাজীবন শেষে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন মির্জা ফখরুল। অর্থনীতির শিক্ষক হিসেবে ঢাকা কলেজে শুরু হয় তার কর্মজীবন।

১৯৮৬ খ্রিষ্টাব্দে সরকারি চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়ে সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেন তিনি। জনসম্পৃক্ত রাজনীতিতে ফিরে এসে ১৯৮৮ সালে নির্বাচিত হন ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান। পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য এবং নিজের ব্যক্তিত্বে বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতির উত্তাল স্রোতে নিজেকে একজন ধৈর্যশীল, সংযত ও সংগ্রামী নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এরপর ৯০ এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের উত্তাল সময়ে তিনি সরাসরি যোগ দেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল – বিএনপিতে। শুরু হয় তার জাতীয় রাজনীতির নতুন অধ্যায়। ১৯৯২ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি করা হয় তাকে।

২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সেই সরকারের সময়ে কৃষি এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন তিনি, পরে দায়িত্ব পান বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে।

২০০৯ সালের পর শুরু হয় মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে কঠিন এবং দীর্ঘ সংগ্রামের সময়। বিএনপির কাউন্সিলে তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিবের দায়িত্ব পাওয়ার মধ্য দিয়ে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন তিনি। এরপর একদিকে তৎকালীন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দীর্ঘ প্রবাস জীবন, অন্যদিকে দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কারাবাস – এই কঠিন বাস্তবতায় রাজপথে বিএনপির নেতৃত্বের অন্যতম প্রধান মুখ হয়ে ওঠেন মির্জা ফখরুল।

রাজপথের আন্দোলনে, কখনো কারাগারে, কখনো আদালতের বারান্দায় – দীর্ঘ সময় ধরে বিএনপিকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে গেছেন তিনি।

এরপর ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পান মির্জা ফখরুল। দীর্ঘ এ পথচলায় বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রেখে বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ রাখার কঠিন দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন, চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান – বাঙালির ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ এই অধ্যায়গুলো মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক ভিতকে মজবুত করে।

অর্থনীতি ও সাহিত্যের প্রতি গভীর অনুরাগী মির্জা ফখরুল একজন সংবেদনশীল মানুষ।

শিক্ষক থেকে জাতীয় রাজনীতির অন্যতম প্রধান নেতৃত্ব হয়ে ওঠা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাজনৈতিক জীবন ধৈর্য ও ত্যাগের এক অবিশ্বাস্য ইতিহাস।

রেজা-১৩/ডিএসই-৮