Saturday, August 1

বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব মডেলকে গুরুত্ব দিচ্ছে

রেজাউল করিম : সরকারি অর্থায়নের ওপর নির্ভরতা কমাতে এবং জরাজীর্ণ ও পুরোনো বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের অধীনস্থ পর্যটন সুবিধাগুলোকে ‘পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ’ (পিপিপি) বা সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব মডেলের অধীনে আনা হচ্ছে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় আশা করছে, পিপিপি মডেলের ফলে দেশি-বিদেশি নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে, দর্শনার্থীদের সেবার মান উন্নত হবে এবং সরকারের উন্নয়ন ব্যয় হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি বাণিজ্যিকভাবে টেকসই পর্যটন গন্তব্য গড়ে উঠবে।

পর্যটন কর্পোরেশন বর্তমানে সারা দেশে হোটেল, মোটেল, রেস্তোরাঁ, বার, পিকনিক স্পট এবং পর্যটন তথ্য কেন্দ্রসহ মোট ৫৩টি পর্যটন প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছে।

কর্পোরেশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অনেক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বছরের পর বছর ধরে আশানুরূপ লাভ করতে পারছে না, যার ফলে কেবল সরকারি অর্থায়নে এগুলোর আধুনিকায়ন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

আর্থিক রেকর্ড অনুযায়ী, পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে পরিচালিত পর্যটন কর্পোরেশনের বাণিজ্যিক কার্যক্রমে (১৯৭২-৭৩ থেকে ২০২৩-২৪) মোট ২,৩০১ কোটি ৮৪ লাখ টাকা আয়ের বিপরীতে ২,২৬৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত জানান, ‘পর্যটন কর্পোরেশনের অধীনে বেশ কয়েকটি হোটেল এবং পর্যটন সুবিধা দীর্ঘদিন ধরে লোকসানে চলছে। এই বাস্তবতা বিবেচনা করে আমরা সেগুলোকে পর্যায়ক্রমে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ মডেলের অধীনে নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি প্রকল্পের জন্য পরামর্শক নিয়োগের প্রক্রিয়া অনেক দূর এগিয়েছে।’ ‘আমরা বেসরকারি খাতের দক্ষতা, আধুনিক ব্যবস্থাপনা এবং বিনিয়োগকে কাজে লাগিয়ে এই পর্যটন সুবিধাগুলোকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে চাই। একই সাথে আমরা নিশ্চিত করতে চাই যে, রাজস্ব ভাগাভাগি চুক্তির মাধ্যমে সরকার যেন রাজস্ব পায় এবং এই প্রতিষ্ঠানগুলো যেন আর্থিকভাবে টেকসই হয়ে ওঠে।’

কানিজ-০২/ডিএসই-৮