
সিলেট সদর থেকে শেওলা সড়ক
সিলেট সদর থেকে শেওলা পর্যন্ত মাত্র ৪৩ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৮৭২ কোটি ৩২ লাখ টাকা। প্রতি কিলোমিটার নির্মাণে ব্যয় ৯০ কোটি টাকার কিছু বেশি। অথচ সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ-ভোলাগঞ্জের একই ধরনের রাস্তায় কংক্রিট ব্যবহার করে প্রতি কিলোমিটারে খরচ হয়েছে মাত্র ৪০ কোটি টাকা।
তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতিরিক্ত ব্যয়ের অনুমোদন তো দেওয়া হবেই না, প্রকল্প হলেই গাড়ি কিনতে হবে-এমন সুযোগও দিচ্ছে না পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়।
৬ লেনের সড়ক নির্মাণে পরামর্শক ব্যয়, টোল প্লাজা নির্মাণ ব্যয় ও যানবাহন বাবদ ব্যয়ের অস্বাভাবিক হিসাব দাখিল করা হয়েছিল। প্রকল্পে গাড়ি কেনার জন্য অপ্রয়োজনীয় ব্যয় ধরার পর আবার গাড়ি ভাড়ার জন্যও আলাদা বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রকল্প প্রস্তাবে পারফরম্যান্স গ্রেড (পিজি) বিটুমিন ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশে এ ধরনের বিটুমিন তৈরি হয় না। দেশের কোনো ঠিকাদারের এ ধরনের বিটুমিন ব্যবহার করে রাস্তা বানানোর অভিজ্ঞতা নেই। সড়ক ও জনপথের কিছুু কর্মকর্তার বাসনায় এ বিটুমিন ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
এ ব্যপারে কথা বলতে বারবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও ব্যস্ততার কারণ দেখিয়ে কথা বলতে রাজি হয়নি সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী এ কে এম মনির হোসেন পাঠান।
পরিকল্পনা কমিশনের অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলোর তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, ১৯২ কিলোমিটার দীর্ঘ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করতে খরচ পড়েছে কিলোমিটারপ্রতি ২১ কোটি টাকা। জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ চার লেন প্রকল্পেও খরচ হয়েছে কিলোমিটারে ২১ কোটি টাকা। যাত্রাবাড়ী-কাঁচপুর আট লেন প্রকল্পে খরচ হয়েছে কিলোমিটারে ২২ কোটি টাকা। রংপুর-হাটিকুমরুল চার লেনে খরচ পড়েছে কিলোমিটারে ৫৫ কোটি টাকা।
সিলেট-শেওলা সড়কের প্রকল্প প্রস্তাবে তিনটি সেতু নির্মাণের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু কোন কোন নদীর ওপর সেগুলো নির্মিত হবে, সে ব্যাপারে কিছু বলা হয়নি। কোনো নদীর ওপর সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা করা হলে তার জন্য বিআইডব্লিউটিএর নেভিগেশনাল ক্লিয়ারেন্সের প্রয়োজন হয়। কিন্তু তা উপস্থাপন করা হয়নি প্রকল্প প্রস্তাবে।
গাড়ি কেনাবিষয়ক উপ-প্রস্তাবেও (কম্পোনেন্ট-প্রপোজাল) অসংগতি রয়েছে। গাড়ি বা মোটরযান কেনা বাবদ ১০ কোটি ৭১ লাখ টাকার কথা বলার পরই আরেক উপ-প্রস্তাবে বলা হয়েছে, গাড়ি ভাড়া বাবদ ৪ কোটি ৮১ লাখ টাকা লাগবে। কিন্তু গাড়ি কেনার পর গাড়িভাড়ায় কেন এত টাকা লাগবে, তা স্পষ্ট করা হয়নি।
তাছাড়া একটি টোলপ্লাজা নির্মাণের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকা।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মামুন আল রশিদ বলেন, ‘আমরা ভালো করে প্রকল্প প্রস্তাব নিরীক্ষণ করাব। মন্ত্রী এ ব্যাপারে নির্দেশ দিয়েছেন। অস্বাভাবিক ব্যয় কমাতে কঠোর অবস্থানে আছি আমরা।’
রাশেদুল/৩১/ডিএসই
