
ঢাকা : লিকুইডেশন বা অবসায়নের ঝুঁকিতে থাকা পদ্মা ব্যাংকে বিটিআরসির আমানত ৫১ কোটি ৪ লাখ টাকা কী গচ্চা যাচ্ছে ?
এমন প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, ‘পদ্মা ব্যাংকের বর্তমান পরিস্থিতি এতোটাই নাজুক যে ব্যাংকটির মন্দ ঋণ, পুঞ্জীভূত লোকসান এবং মূলধন ঘাটতি কাটিয়ে ওঠা সাধারণ প্রক্রিয়ায় অসম্ভব। ব্যাংকটিকে টিকিয়ে রাখা বা কোনো ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করাও অত্যন্ত কঠিন। সবকিছু মিলিয়ে গুটিয়ে ফেলা (অবসান বা লিকুইডেশন) ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।’
অবসায়ন হলে কোনো ব্যাংকের একজন ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহক বীমা আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা ফেরত পাওয়ার আইন রয়েছে। ব্যাংক রেজল্যুশন আইন অনুযায়ী, অবসায়নের পর ব্যাংকের সম্পদ নির্ধারিত অগ্রাধিকারক্রমে বণ্টন হবে। বিটিআরসির আমানত যদি অরক্ষিত আমানত বা সাধারণ পাওনা হিসেবে শ্রেণিভুক্ত হয়, তাহলে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত দাবিগুলো পরিশোধের পর ওই শ্রেণির পাওনাদারদের জন্য প্রাপ্য সম্পদ থেকে তাদের পাওনা পরিশোধ করা হবে। ফলে বিটিআরসির ৫১ কোটি ৪ লাখ টাকা পুরোপুরি ফেরত পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই।
বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. এমদাদ উল বারী (অব:) বলেছেন, টাকা উদ্ধারে তারা সবরকমের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। এখন তারা আইনগত পদক্ষেপ নেবেন বা মামলা করবেন।
পদ্মা ব্যাংকের মতিঝিল, মিরপুর, বসুন্ধরা, ইমামগঞ্জ শাখায় ২০১৭ সালে করা ৭টি মেয়াদী আমানতে সুদসহ বর্তমান পাওনা ৫১ কোটি ৪ লাখ টাকা। এই টাকা বছরের পর বছর চেষ্টা করেও তুলতে পারেনি বিটিআরসি।
বর্তমানে বিটিআরসি তাদের রাজস্ব সোনালী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক ও ইস্টার্ন ব্যাংকে রাখছে।
তবে সম্প্রতি আবার স্বচ্ছ ও উন্মুক্ত প্রক্রিয়ায় ব্যাংক নির্বাচনে নিজেদের নেয়া সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে তারল্য ও পারফরম্যান্স ঝুঁকিতে থাকা এবি ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খুলে রাজস্ব রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিটিআরসি।
হামিম-৫/ডিএসই-১০
