Tuesday, September 15

বীমা কোম্পানিতে গোপন লেনদেনের জন্য আলাদা সার্ভার

অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী – ছবি : সংগৃহিত

ঢাকা : সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) মতিঝিলে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) প্রধান কার্যালয় পরিদর্শনের পর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, যেসব জীবন বীমা কোম্পানি পলিসিধারীদের দাবি পরিশোধে ব্যর্থ হবে, তাদের দায়বদ্ধতা পূরণে জমি ও অন্যান্য সম্পদ বিক্রি করতে বাধ্য করা হতে পারে।

বীমা খাতের ব্যাপক দুর্বলতা মোকাবিলায় সরকার বীমা আইন, ২০১০ সংশোধনের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং একই সঙ্গে খাতটির জন্য একটি সংকট-সমাধান কাঠামো প্রণয়ন করছে।

তিনি বলেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই দুটি উদ্যোগ সংসদে উপস্থাপন করা হতে পারে।

মন্ত্রী বলেন, জীবন বীমার ৫৭ শতাংশ দাবি এখনো অপরিশোধিত রয়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার বীমা খাতে ব্যাপক অনিয়মের সন্ধান পেয়েছে বলেও তিনি জানান।

তার ভাষায়, একসময় ব্যাংকিং খাতকে যেভাবে দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার অবহেলা বিপর্যস্ত করেছিল, বীমা খাতও একই ধরনের সমস্যার মধ্যে পড়ে গেছে।

খসরু বলেন, অনেক বীমা কোম্পানি পলিসিধারীদের দাবি পরিশোধের পরিবর্তে জমি, রিয়েল এস্টেট ও সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ করেছে।

মন্ত্রী বলেন, আইডিআরএকে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে এবং যেসব কোম্পানি দাবি পরিশোধে ব্যর্থ হয়েছে, তাদের প্রত্যেককে কঠোর সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

খসরু আরও বলেন, কিছু পক্ষ “অন্যায্য সুবিধা নেওয়ার” উদ্দেশ্যে প্রায়ই আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছে।
তদন্তে আরও দেখা গেছে, কয়েকটি বীমা কোম্পানি দুটি সমান্তরাল রেকর্ড-রক্ষণ ব্যবস্থা বা সার্ভার পরিচালনা করছে—একটি প্রকৃত এবং অন্যটি গোপন। গোপন ব্যবস্থাটি ব্যবহার করে অননুমোদিত লেনদেন করা হতো বলে তিনি জানান।

মন্ত্রী বলেন, ডুয়াল সার্ভার পরিচালনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। একটি নির্দিষ্ট সময় দেওয়া হয়েছে। এরপর পরিদর্শন শুরু হবে এবং আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি বলেন, সাত থেকে আটটি বীমা কোম্পানি দীর্ঘদিন ধরে নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা অমান্য করে আসছে এবং তাদের কার্যক্রম নিয়ে এখন কঠোর তদন্ত ও পর্যালোচনা চলছে। খুব শিগগিরই তাদের বকেয়া ও অনিয়মের বিষয়গুলো সমাধান করতে হবে, অন্যথায় কঠোর পদক্ষেপের মুখোমুখি হতে হবে।

বর্তমানে দেশে ৮২টি বীমা কোম্পানি রয়েছে, যার অনেকগুলোই দুর্বল বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, জাতীয় অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও ধারাবাহিক সরকারগুলো বীমা খাতের পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে।

রেজা-১৫/ডিএসই-৯