Tuesday, September 15

প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে গণমাধ্যমে যে স্বাধীনতা বিরাজমান, তা অব্যাহত থাকবে

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী – ছবি : বাসস

ঢাকা : শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায় সাংবাদিকদের জন্য মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকতা, ফ্যাক্টচেকিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা শেষে বলেন, বাংলাদেশের এমন কোনো জনপ্রিয় বা সুপরিচিত ব্যক্তি নেই, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যার নামে অপপ্রচার করা হয়নি। আমাদের মা-বোনদেরও মিসইনফরমেশন ও ইনপার্সোনেশনের মাধ্যমে হেয়প্রতিপন্ন করা হচ্ছে। এটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অপতথ্য, গুজব ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট ঠেকাতে সাংবাদিকদের আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের ভুল-ভ্রান্তি হলে সাংবাদিকরা অবশ্যই তা তুলে ধরবেন। তবে অপপ্রচার বা অপতথ্যের মাধ্যমে নয়। এআই, ফ্যাক্টচেকিং এবং মিসইনফরমেশন সম্পর্কে সাংবাদিকদের দক্ষতা বাড়াতেই সারা দেশে প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সাংবাদিকদের শুধু একটি সার্টিফিকেট দেওয়া হচ্ছে না। ফ্যাক্টচেকিং, ডিসইনফরমেশন ও মিসইনফরমেশন সম্পর্কে তাদের দক্ষ করে তোলাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য। বাংলাদেশে যেভাবে অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে, তা বন্ধে সাংবাদিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, অপপ্রচার শুধু সাংবাদিকদের মাধ্যমে হচ্ছে না। অনেকেই সাংবাদিক না হয়েও নিজেদের সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে গুজব ও অসত্য তথ্য ছড়াচ্ছেন। এতে প্রকৃত সাংবাদিকদেরও দুর্নাম হচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রকৃত সাংবাদিকদের জন্য আমরা দুই বছর মেয়াদি মাস্টার্স কোর্স, এআইভিত্তিক জার্নালিজমসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি করছি। প্রেস ক্লাবগুলোর মাধ্যমে প্রকৃত সাংবাদিকদের তালিকা নেওয়া হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে তাদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে।

তিনি জানান, প্রথম ধাপে ময়মনসিংহ বিভাগ, বগুড়া, ফেনী ও ঢাকার আশপাশের বিভিন্ন জেলায় সাংবাদিকদের এ ধরনের প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব এলাকায় এ কার্যক্রম ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকদের কল্যাণে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে বিভিন্ন সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। সাংবাদিকদের জন্য আরও সহযোগিতা বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করা হয়েছে এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

দেশের উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা মিথ্যা বা অসত্য আশ্বাস দিতে চাই না, যে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশকে সিঙ্গাপুর বানিয়ে দেব। এমন মিথ্যা আশ্বাস আমরা দিই না। তবে বাংলাদেশকে আরও সুন্দর ও ভালো জায়গায় কীভাবে নেওয়া যায়, সে লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি।’

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সবার। রাজনীতিবিদ, প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সাংবাদিকসহ প্রত্যেকেরই দেশের প্রতি দায়িত্ব রয়েছে। সাংবাদিকরা জনগণের কথা তুলে ধরেন এবং সরকারের ভুল-ত্রুটিও তুলে ধরবেন। তবে তা হতে হবে তথ্যনির্ভর ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মাধ্যমে।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গণমাধ্যমে যে স্বাধীনতা বিরাজমান, তা অব্যাহত থাকবে।’

অনুষ্ঠানে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

কানিজ-১২/ডিএসই-৯