Wednesday, July 29

পুলিশ অনুমতি না দিলেও ঢাকার সমাবেশ মহানগরেই হবে – বিএনপি

ঢাকায় সমাবেশকে ঘিরে বিএনপি – ডিএমপি মুখোমুখি অবস্থানে

রাজনৈতিক অঙ্গনে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ১০ ডিসেম্বর বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশ। ১০ ডিসেম্বরে গণসমাবেশ করার জন্য রাজধানীতেই অনুমতি পাওয়ার আশা নিয়ে সমাবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। যদিও বিএনপি ঘোষিত এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নির্দিষ্ট জায়গার অনুমতি বিষয়ে এখনও অফিসিয়ালি কিছু জানায়নি ডিএমপি।

বিএনপির সূত্র জানিয়েছে, বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশ শহরে না করে টঙ্গী ইজতেমা মাঠ, পূর্বাচল বাণিজ্য মেলার মাঠ কিংবা মিরপুরের কালশীতে করার জন্য দলটিকে মৌখিকভাবে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পুলিশের এমন প্রস্তাবনার সমালোচনা করে বিএনপি নেতাকর্মীরা বলছেন, ঢাকার মহাসমাবেশ যেকোনো মূল্যে মহানগরের মধ্যেই করতে দিতে হবে। পুলিশ অনুমতি না দিলেও সেটা করা হবে। 

মঙ্গলবার (১৫ নভেম্বর) সমাবেশের অনুমতির জন্য বিএনপির প্রতিনিধি দল ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিএনপি ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান জানিয়েছন, তারা ১০ ডিসেম্বর রাজধানীর নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে শান্তিপূর্ণ গণসমাবেশ করতে চান। সমাবেশকে কেন্দ্র করে যাতে গণপরিবহন বন্ধ করে দেওয়া না হয়। তবে ডিএমপি কমিশনারের পক্ষ থেকে বিএনপির নেতাদের বলা হয়েছে, তারা আলোচনা করে জানাবেন।

গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে অন্যান্য বিভাগীয় শহরের মতো ঢাকাতেও সরকারি তরফ থেকে বাধা আসতে পারে- এই আশঙ্কায় নেতাকর্মীদের সমাবেশে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে এক সপ্তাহ আগে থেকে ঢাকায় চলে আসার ব্যাপারে বলা হয়েছে। ঢাকায় এসে গ্রেপ্তার এড়িয়ে আত্মীয়ের বাসা ও হোটেলে সতর্কাবস্থায় থাকা, যাদের থাকার জায়গা নেই তাদের নেতাকর্মীদের বাসা-বাড়িতে রাখার জন্য বলা হয়েছে। প্রয়োজনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের থাকার ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানিয়েছেন দলের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের নেতারা। এ ব্যাপারে ডিসেম্বরের ৫ তারিখ স্থায়ী কমিটির সভায় সব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান তারা।

ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, আমাদের অভিজ্ঞতা বলছে ১০ ডিসেম্বর ঢাকার মহাসমাবেশে কয়েক লাখ মানুষের উপস্থিতি হবে। তবে গণসমাবেশ হবে শান্তিপূর্ণ। কিন্তু সরকার যদি সেই সমাবেশে বাধা দেয়, তাহলে লড়াই হবে। তাছাড়া এই মহাসমাবেশ থেকেই সরকার পতনের আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। আমরা চাই, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণ তার অধিকার আদায় করে নেবে।

জানতে চাইলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. ফারুক হোসেন বলেন, বিএনপির প্রতিনিধিদল সমাবেশের অনুমতি চেয়েছে এবং তারা নির্ধারিত জায়গা চায়। এই বিষয়ে এখনো কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ বিষয়টি যখন সিদ্ধান্ত নেবেন তখন বিস্তারিত জানানো হবে।

আশরাফুল-করিম/২৯/ডিএসই