Wednesday, July 29

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে উত্তরার বারে ডিবির অভিযান অবৈধ

ডিবি আইন ভঙ্গ করে অভিযান পরিচালনা করার অভিযোগ

বৃহস্পতিবার (৭ অক্টোবর) রাত ৯টা থেকে ভোর রাত পর্যন্ত রাজধানীর উত্তরার ১৩ নম্বর সেক্টরের গরিবে নেওয়াজ অ্যাভিনিউয়ের ‘লেক ভিউ রেস্টুরেন্ট ও বার’-এ অভিযান চালায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। অবশ্য অভিযানের সময় পুলিশ ওই বারের নাম বলেছে ‘কিংফিশার।’

অভিযানের সময় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের পরিদর্শক মাহবুবুর রহমান একটি কক্ষে আটকে রাখা নিয়ে ডিবির বিরুদ্ধে অপেশাদার আচরণের অভিযোগ যাচ্ছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ এর ২০ থেকে ২৩ ধারা পর্যন্ত বারে অভিযানের বিষয়ে বলা রয়েছে। ২০ ধারায় বারে প্রবেশ ও ইত্যাদি ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের (ডিএনসি) মহাপরিচালককে। এই ধারায় বলা হয়েছে, অনুমোদিত বারে মহাপরিচালক বা তার নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা প্রবেশ, জব্দ ও তল্লাশি করতে পারবে। তবে অন্য কোনও বাহিনীর কথা বলা নেই।

কিন্তু রাজধানীর উত্তরায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সেই নিয়ম ভঙ্গ করে অভিযান পরিচালনা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

উত্তরায় ডিবির ওই অভিযানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণের কাউকে জানায়নি পুলিশ। মহাপরিচালকের কোনও প্রতিনিধিও ছিলেন না। উল্টো অভিযানের বিষয়ে খবর পেয়ে অফিসের নির্দেশে সেখানে যান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের উত্তরা এলাকার পরিদর্শক মাহবুবুর রহমান। তিনি অভিযোগ করেন, ‘আমাকে ডিবি পুলিশ একটি কক্ষে আটকে রেখে অপেশাদার আচরণ করে।’

ডিবি ওই অভিযানে বারের ম্যানেজারসহ ৩৫ জনকে গ্রেফতার করেছে। লেকভিউ রেস্টুরেন্ট ও বারের মালিক  মুক্তার হোসেন জানান, তাদের কোনও ত্রুটি থাকলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন আমাদের ধরুক। কিন্তু এভাবে বারে ঢুকে সবাইকে বেধে নিয়ে যাবে, তাহলে তারা ব্যবসা করবেন কীভাবে?

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশিদ এ প্রসংগে বলেছেন, ‘অসামাজিক কার্যকলাপ, অবৈধভাবে মদ বিক্রি বা যেকোনও ঘটনা ঘটলে পুলিশ যেকোনও জায়গায় অভিযান পরিচালনা করতে পারে। পুলিশ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করতে পারে কিনা বা মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করতে পারে কিনা তা আপনারা সাংবাদিকরা ভালো জানেন। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ২৩ ধারায় স্পষ্ট বলা আছে কারা তল্লাশি করবেন বা করবেন না।’

অথচ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ২৩ ধারায় স্পষ্ট বলা রয়েছে, ‘পরোয়ানা ব্যতিরেকে তল্লাশি, ইত্যাদির ক্ষমতা: মহাপরিচালক অথবা তাহার নিকট থেকে এতদুদ্দেশ্যে সাধারণ অথবা বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনও অফিসার, অথবা পুলিশের উপপরিদর্শক, অথবা তদূর্ধ্ব কোনও অফিসার অথবা বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের ল্যান্স নায়েক অথবা তদূর্ধ্ব কোনও অফিসার, অথবা কোস্ট গার্ড বাহিনীর পেটি অফিসার অথবা তদূর্ধ্ব কোনও অফিসার অভিযান পরিচালনা করতে পারবেন।’

আশরাফুল-করিম/২৬/ডিএসই