Wednesday, July 29

আর্মেনিয়া এবং আজারবাইজানের মধ্যে তীব্র যুদ্ধ, নিহত ৫০

আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের তীব্র সংঘাত

নাগোর্নো-কারাবাখের অঞ্চলে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের তীব্র সংঘাত হয়েছে। দুইপক্ষই প্রচুর গোলাগুলি চালিয়েছে। উভয়পক্ষের প্রায় ১০০ সেনা নিহত হয়েছেন।

আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান বলেছেন, সোমবার রাতভর ওই যুদ্ধে তাদের ৪৯ জন সৈন্য নিহত হয়েছেন।

নিকোল পাশিনিয়ান মঙ্গলবার সকালে পার্লামেন্টে দেওয়া ভাষণে বলেছেন, তিনি ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনকে ‘আজারবাইজানের আগ্রাসী কর্মকাণ্ডের’ বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, নতুন করে সংঘাতের ঘটনা দুইপক্ষই একে অপরের ঘাড়ে দায় চাপাচ্ছে। দুইপক্ষের দাবি, অন্যজন প্রথমে হামলা চালিয়েছে, পরে তারা জবাব দিয়েছে। এদিকে, আর্মেনিয়া-আজারবাইজানের সীমান্ত সংঘর্ষ থামাতে সফল হওয়ার দাবি করেছে রাশিয়া। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, মস্কোর স্থানীয় সময় সময় সকাল ৯টা থেকে একটি যুদ্ধবিরতি সম্মত হয়েছে উভয়পক্ষ।

দুটি দেশই সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ ছিল। নাগোর্নো-কারাবাখ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে ১৯৮০ এবং ১৯৯০ এর দশকে বড় আকারে যুদ্ধ হয়েছে। সর্বশেষ ২০২০ সালেও দুই দেশ ছয় সপ্তাহ ধরে এক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিল।

উল্লেখ্য, আর্মেনিয়া এবং আজারবাইজানের মধ্যে বিরোধের কেন্দ্রে আছে বিতর্কিত নাগোর্নো-কারাবাখ অঞ্চল। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমান্ত অনুযায়ী এটি আজারবাইজানের অংশ, তবে সেখানে থাকে মূলত জাতিগত আর্মেনিয়ানরা।তবে এই সাংস্কৃতিক বিভেদ কেবল রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ নেই, এর পাশাপাশি ধর্মীয় বিভেদও দুই দেশের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি করছে। আর্মেনিয়া মূলত খ্রিস্টান সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ, অন্যদিকে আজারবাইজান মূলত মুসলিম।

আরমেনিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মঙ্গলবার প্রথম প্রহরে সংঘর্ষ শুরু হয়। আরমেনিয়ার গোরিস, সতক ও জারমুক লক্ষ্য করে গোলা, মর্টার ও ড্রোন হামালা চালানো হয়। 

তবে আজারবাইজান অভিযোগ করে বলেছে, দাশকেসান, কেলবাজর এবং লাচিন জেলার কাছে ‘বড় আকারের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড’ চালাচ্ছিল আরমেনিয়া। এর প্রতিক্রিয়ায় তার সীমিত পরিসরে আর্মেনীয় বাহিনীর অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

আল-জাজিরা/২৩/ডিএসই