Wednesday, July 29

১৫ আগস্ট কারবালার থেকেও জঘন্য হত্যাকাণ্ড – প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ১৫ আগস্টে কারবালার থেকেও জঘন্য হত্যাকাণ্ড

জাতির পিতার হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ১৫ আগস্টে কারবালার থেকেও জঘন্য হত্যাকাণ্ড ঘটে। আমার শুধু একটা প্রশ্নই জাগে মনে, আমার বাবা-মা-ভাইয়েরা কী অপরাধটা করেছিল? কেন এভাবে হত্যা করা হলো? তিনি বলেন, ‘শূন্য হাতে একটা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ এবং একটা প্রদেশ—তাকে রাষ্ট্রে উন্নীত করা এবং এই বিধ্বস্ত বাংলাদেশকে গড়ে তোলা। হাতে সময় পেলেন মাত্র সাড়ে তিন বছর। কোনও সম্পদ ছিল না।’

রবিবার (১৪ আগস্ট) আওয়ামী লীগের বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গণভবনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, তিনি (বঙ্গবন্ধু) শুধু একটা কথাই বলেছিলেন, মাটি আর মানুষ হচ্ছে আমার সম্পদ। এই মাটি আর মানুষের ওপর নির্ভর করেই কিন্তু তিনি সাড়ে তিন বছরের মধ্যেই সেই বিধ্বস্ত বাংলাদেশকে গড়ে তুলে স্বল্পোন্নত দেশে উন্নীত করে দিয়ে যান। তাঁর লক্ষ্যটা ছিল যে ঘুণে ধরা সমাজ ভেঙে একটা নতুন সমাজ দেবেন। এই ঔপনিবেশিক আমলের যে প্রশাসনিক কাঠামো, সেটা ভেঙে গণমুখী প্রশাসনিক কাঠামো তিনি করতে চেয়েছিলেন। গণমুখী প্রশাসনিক কাঠামো করার জন্য একটা বিরাট পরিবর্তন তিনি আনতে চেয়েছিলেন। এই গণমুখী প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তুলে ক্ষমতাকে বিকেন্দ্রীকরণ করে, তিনি তৃণমূলের মানুষের কাছে ক্ষমতা দিতে চেয়েছিলেন।’

তিনি বলেন, ‘যে জন্য বাংলাদেশটাকে প্রত্যেকটা মহকুমাকে জেলায় রূপান্তর করলেন এবং একেকটা জেলার উন্নয়নটা যাতে ওই জেলার ভিত্তিতে হয়, যাতে মানুষের দুঃখ-দুর্দশা দূর হয়, আর্থ-সামাজিক উন্নতি হয়—সেই পদক্ষেপটাই তিনি নিলেন এবং দ্বিতীয় বিপ্লবের যে ডাকটা দিলেন, সেটার লক্ষ্যই ছিল জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা। উৎপাদন বৃদ্ধি করা, আর্থ-সামাজিক উন্নতি করা। মনে হয় যেন, এই দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কেউ যদি কোনও অবদান রাখতে যায়, তাঁকে বোধহয় বিপর্যয়ে পড়তে হয়। এটাই হচ্ছে বাস্তবতা। এটাই হচ্ছে আমাদের জন্য সব থেকে দুর্ভাগ্যের যে যখনই এই দেশের মানুষ একটু ভালো থাকে, ভালো অবস্থায় আসে, তখনই চক্রান্ত-ষড়যন্ত্রটা শুরু হয়।’

তিনি বলেন, আগস্টের খুনিদের জিয়াউর রহমান যে শুধু ইনডেমনিটি দিয়ে, মাফ করে দিয়ে, পুরস্কৃত করেছে তা তো না। এরশাদ এসে খুনি ফারুককে প্রেসিডেন্ট ক্যান্ডিডেট করলো। খালেদা জিয়া এসে আরও একধাপ ওপরে। রশিদ-ফারুক-হুদা তিন জনকে নমিনেশন। ফারুককে জেতাতে চেষ্টা করেছিল, কিন্তু সেটা পারে নাই। হুদা আর রশিদকে জিতিয়ে পার্লামেন্টে বসালো। খুনি রশিদকে পার্লামেন্টের লিডার অব অপজিশনে বসালো। তার মানে এই দেশে খুনিদের সৌহার্দ্যটা কত—এটা জনগণের জানা উচিত। সেই খুনিদের তারা পুরস্কৃত করার মানে কী? ১৫ আগস্ট হত্যার সঙ্গে এদের যে সম্পৃক্ততা, জিয়াউর রহমানের সম্পৃক্ততা, ইনডেমনিটি দিয়ে তাদের বিচার হবে না। আমরা যারা ১৫ আগস্ট আপনজন হারিয়েছি, আমাদের তো বিচার চাওয়ার অধিকার ছিল না। মামলা করার অধিকার ছিল না, তাদের পুরস্কৃত করা হয়েছে। অর্থাৎ বিচারহীনতার একটা সংস্কৃতি এ দেশে চালু করে দিয়েছিল। যেখানে তুমি কোনও দিন ন্যায়বিচার চাইতেই পারবে না। খুব ইয়ে লাগে যখন কেউ মারা গেলে, আমার কাছে বিচার চায়। কারণ, আমার তো বিচার পেতে ৩৫ বছর সময় লাগছে। আমার বাপ, মা, ভাই সব হারানোর পরে বিচার চাইতে পারিনি।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমার আব্বা তো সারা জীবন এই দেশের মানুষের জন্য ত্যাগ স্বীকার করে গেছেন। শেষ পর্যন্ত জীবনটাই দিয়ে গেছেন। একটা মানুষ ঘর পাওয়ার পরে তার মুখের হাসি ও তৃপ্তিটা মনে হয় আমার বাবা বেহেশত থেকে দেখেন। তার মনটাও নিশ্চয়ই তৃপ্ত হয় যে দেশের মানুষ কিছু পাচ্ছে।’

বাসস/২৮/ডিএসই

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *