
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা
রোববার (১৮ ডিসেম্বর) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় সরকার পতনের আন্দোলনের ডাক দেওয়া বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘সরকার পতন এত সোজা না।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিজয় আমরা এনেছি বিজয়ের পতাকা সমুন্নত রাখতে হবে। যুদ্ধাপরাধীরা যাদের বিচার হয়েছে, তারা যাতে ক্ষমতায় এসে দেশ ধ্বংস করতে না পারে, সেদিকে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।
এ সময় বিজয়ের মাসে বিএনপির আন্দোলনের ডাক দেওয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিএনপি বিজয়ের মাসে বিজয় অনুষ্ঠান করবে, সেটি না করে তারা সরকার উৎখাত করবে। এতই সোজা?
‘আওয়ামী লীগ পারে, আইয়ুব খানকে আমরা উৎখাত করেছি, যুদ্ধে পরাজিত করেছি। জিয়াকে পারি নাই হাতে, কিন্তু যেখানে গিয়েছে আন্দোলন তার বিরুদ্ধে হয়েছে, এরশাদকে উৎখাত করেছি, খালেদা জিয়া ৫ ফেব্রুয়ারি ভোট চুরি তাকে উৎখাত করা হয়েছে। আবার ২০০৬ সালে ভোট চুরি করতে চেয়েছিলো ১ কোটি ২৩ লাখ ভুয়া ভোটার দিয়ে সেটাও বাতিল করেছি।’
বিএনপির আন্দোলনে বামদের সমর্থনে বিস্ময় প্রকাশ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, বিএনপি জামায়াত জোট মিলে এবং তাদের সাথে আরও কিছু পার্টি দাঁড়ালো…আরেকটা জিনিস খুব অবাক লাগে, কোথায় লেফটিস (বামপন্থি) আর কোথায় রাইটিস (ডানপন্থি)। যারা লেফটিস তারা মনে হলো ৯০ ডিগ্রি ঘুরে গেছে। অর্থাৎ সেই জামায়াত বিএনপি তাদের সাথে আমাদের বাম, অতিবাম, স্বল্প বাম, তীব্র বাম, কঠিন বাম; সব যেন এক হয়ে এক প্ল্যাটফর্মে। ওই যে বলেছিলো না, বিচিত্র এই দেশ সেলুকাস। সেই কথাই মনে হয়, কোথায় তাদের আদর্শ, আর কোথায় তাদের নীতি আর কোথায় কি?
এ সময় প্রশ্ন তুলে শেখ হাসিনা বলেন, কি কারণে? যারা হত্যাকারী, দশ ট্রাক অস্ত্র চোরাকারবারিতে সাজাপ্রাপ্ত আসামি, গ্রেনেড হামলায় আইভী রহমান সহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হত্যায় যার বিচার হয়েছে এবং সাজাপ্রাপ্ত আসামি, দেশের টাকা পাচার করে সাজাপ্রাপ্ত আসামি, সব ধরনের অপকর্ম, এতিমের অর্থ আত্মসাৎ করা, এই সমস্ত সাজাপ্রাপ্ত আসামি তাদের নেতৃত্বে এত বড় বড় তাত্ত্বিক এত বড় বড় কথা বলে এত কিছু করে; তাহলে এরা এক হয়ে যায় কিভাবে? সেটাই আমাদের প্রশ্ন।
তাহবিব-হক/১১/ডিএসই
