
মহাসড়কে ডাকাতির তালিকা ধরে বড় ধরনের অভিযান শুরু হচ্ছে
সম্প্রতি মহাসড়কে বাসে ডাকাতিসহ ধর্ষণের ঘটনার পর গত পাঁচ বছরে সারাদেশে মহাসড়কে ডাকাতির তালিকা করে হাইওয়ে পুলিশের সদর দপ্তর পর্যালোচনা শুরু করছে। এ তালিকা ধরে শিগগির বড় ধরনের অভিযান শুরু করা হবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
মহাসড়কে চলাচলকারী বাসগুলোর একটি নির্দিষ্ট স্থান থেকে যাত্রী তুলে আবার নির্দিষ্ট স্থানে নামিয়ে দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু তারা মহাসড়কের যত্রতত্র যাত্রী তোলে বলে অভিযোগ।
বাসচালকদের দাবি, রাতে কিছু লোভী চালক, সুপারভাইজর ও হেলপারের কারণে বাসে ডাকাতি হয়। তারা রাস্তার মাঝ থেকে যাত্রী তোলেন। রাতে ফাঁকা জায়গায় পুলিশের জোরালো টহল না থাকার কারণে সুযোগ নেয় ডাকাতরা।
পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, বাসে যাত্রীদের ভিডিও করা, সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং প্যানিক বাটন লাগানোর মাধ্যমে ডাকাতি রোধ সম্ভব। কিন্তু এসব আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে উদাসীন মালিকরা। তারা চালক-সহকারীদের সতর্ক করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। নির্ধারিত স্টপেজের বাইরে যাত্রী না তুলতে কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে তাদের। নির্ধারিত রুটের বাইরে বাস না চালানোর বিষয়টিও কঠোর মনিটরিংয়ের আওতায় আনতে বলা হয়েছে।
হাইওয়ে পুলিশ সূত্র জানায়, দূরপাল্লার গাড়িতে ডেস্ক ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ওই ক্যামেরার মাধ্যমে যাত্রীদের মনিটরিং করা হবে। সেখানে বিশেষ ডিভাইস থাকবে। সংযুক্ত থাকবে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর সঙ্গে। গাড়িটি বিপদে পড়লে ডিভাইসটিতে চাপ দিলেই সংকেত ৯৯৯-এ চলে যাবে। এর মাধ্যমে স্থানীয় থানা বিপদে পড়া গাড়ির বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারবে।
বর্তমানে সব গাড়িতে ডিজিটাল নাম্বার প্লেট লাগানো আছে। এই ডিজিটাল নম্বরপ্লেটটি দেওয়ার একটাই উদ্দেশ্য ছিল, তাহলো ডিভাইস বসিয়ে গাড়ি ট্র্যাকিং করা এবং যার মূল কাজ ছিল নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এর দায়িত্ব ছিল একটি বেসরকারি কোম্পানির।
যানবাহনে ডিজিটাল নম্বরপ্লেট লাগালেও ডিভাইস স্থাপন করেনি তারা। শুধু নম্বরপ্লেট লাগিয়ে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তাদের সঙ্গে চুক্তি ছিল এক লাখ গাড়িতে নম্বরপ্লেট লাগিয়ে সড়কে ডিভাইস লাগাবে। কিন্তু ২০ লাখের বেশি গাড়িতে ডিজিটাল নম্বরপ্লেট লাগানোর পরেও ডিভাইস স্থাপন করেনি। সরকারের পক্ষ থেকেও সেই কোম্পানিকে তাগাদা দেওয়া হচ্ছে না। ডিভাইসটি থাকলে যানবাহনের গতিবিধি শনাক্ত করা যাবে, যানবাহন ট্র্যাকিং এমনকি যানবাহনে কতজন যাত্রী আছে তাও মোবাইলে দেখা সম্ভব।
বিশেষ-প্রতিনিধি/২০/ডিএসই
