
বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠকে আইএমএফ প্রতিনিধি দল
রবিবার (৩০ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আইএমএফ প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে খেলাপি ঋণ কমাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নেওয়া পদক্ষেপ এবং ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কোন ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়েও জানতে চেয়েছে।
সরকার আইএমএফের কাছে বাজেট সহায়তা হিসেবে ৪৫০ কোটি ডলার ঋণ চাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে সংস্থাটির একটি প্রতিনিধি দল আলোচনার জন্য বাংলাদেশ সফর করছে। এরই অংশ হিসেবে আইএমএফের মিশন প্রধান রাহুল আনান্দের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলটি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, ডেপুটি গভর্নর ও প্রধান অর্থনীতিবিদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে দ্বিতীয় দিনের মতো বৈঠক করে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, খেলাপি ঋণ ছাড়াও মুদ্রানীতি, বৈদেশিক বাণিজ্য ঘাটতি, ঋণের সুদ ও মুদ্রার বিনিময় হার, সঞ্চয়পত্রের সুদ হার, বন্ড ব্যবস্থাপনাসহ বেশ কিছু বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এসব আলোচনায় আইএমএফের বিভিন্ন প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে।
বর্তমানে খেলাপি ঋণ সোয়া লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, দেশের খেলাপি ঋণ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আইএমএফের প্রতিনিধি দল। তারা খেলাপি ঋণ কমাতে বাংলাদেশ ব্যাংক কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চেয়েছে। পাশাপাশি ঋণ পুনঃতফসিলিকরণ ও পুনর্গঠন সংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের মাস্টার সার্কুলার প্রসঙ্গেও জানতে চেয়েছে আইএমএফ।
এদিকে খেলাপি ঋণের তথ্য সঠিকভাবে উপস্থাপন হচ্ছে না বলে অভিযোগ আছে আইএমএফসহ বিভিন্ন তরফ থেকে। তাদের মতে, খেলাপি ঋণের হার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যের চেয়ে অনেক বেশি।
আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী খেলাপি ঋণের হার সর্বোচ্চ ৩ শতাংশ পর্যন্ত সহনীয় বলে ধরা হয়। কিন্তু বাংলাদেশে এই হার প্রায় ৯ শতাংশ। সরকারি ব্যাংকে এই হার ২০ শতাংশের বেশি।
সাব্বির/২৯/ডিএসই
